Ajker Patrika

অবশেষে চেনা রূপে মেলা

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা
আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৬: ৫৪
অবশেষে চেনা রূপে মেলা
ছবি: ফোকাস বাংলা

এই দিনের জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। পয়সা খরচ করে বই বের করা প্রকাশক তো বটেই, বইপ্রেমী পাঠকেরাও। জনশূন্য মেলায় ঘুরতে কার ভালো লাগে! স্টলে স্টলে থাকবে ক্রেতা-পাঠকের ভিড়। হাতে থাকবে একগাদা বইয়ের ব্যাগ। সেটিই তো বইমেলার চিরচেনা রূপ!। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির প্রথম দিনে সেই চেহারা অনেকটা ফিরে এল।

সকাল থেকে মেলা ছিল পাঠকের পদচারণে মুখর। শিশুপ্রহরে বাবা-মায়ের সঙ্গে দল বেঁধে এসেছে শিশুরাও। বেলা বাড়তেই ধীরে ধীরে এসেছেন বয়স্ক মানুষেরা। বিক্রয়কর্মী, প্রকাশকদের মুখে দেখা গেল হাসি। মোটামুটি ভালো বিক্রি হয়েছে এদিন।

ইফতারের পরও মেলায় পাঠকের ভিড় ছিল। ছুটির দিন থাকায় রাজধানীর বাইরে থেকেও এসেছেন অনেকে। সাভার কলেজের ছাত্র মাসুম হোসেন বলেন, ‘এর আগে এক দিন এসেছি। খুব একটা ভালো লাগেনি। কেমন খালি খালি ছিল। আজকে এসে ভালো লাগছে। মেলার আবহটা পাচ্ছি।’

গতকাল বেশ কিছু নতুন বইও এসেছে স্টলগুলোতে। আদর্শ প্রকাশনীর কর্মী ফারদিন আহমেদ বলেন, ‘গত কয়েক দিনের তুলনায় আজকে একটু বেশি বিক্রি হয়েছে। ছুটির দিনের কারণে লোক বেশি এসেছে। তবে গত কয়েক মেলার তুলনায় এই মেলায় বিক্রি কম।’

মাওলা ব্রাদার্স এবার ২০-২৫টি বই বাজারে এনেছে। এর মধ্যে সিংহভাগই চলে এসেছে। প্রকাশনীর কর্মী হাসনাত কবির বলেন, ‘আজকে বিক্রি ভালো। এবারের মেলার একটা বৈশিষ্ট্য হলো, বেহুদা লোক কম। যাঁরা আসছেন, তাঁদের মধ্যে পাঠকই বেশি।’

অনন্যা প্রকাশনীর নতুন বই আসবে ৩৫-৪০টি। এগুলো মধ্যে ৩০টি চলে এসেছে। স্টলের কর্মী কাওসার আহমেদ জানালেন, বিক্রি বেড়েছে।

গতকাল অনেককে দেখা গেছে, স্টলে স্টলে ঘুরে বইয়ের তালিকা করতে। পরে কিনবেন। কাল শিশুপ্রহর ছিল বেলা ১১টা থেকে ১টা। কিন্তু সন্ধ্যার পরেও মেলায় ঘুরেছে অনেক শিশু। শিশুদের আঙিনায় পুতুলনাচের মঞ্চ ঘিরে ছিল ভিড়। মেলা থেকে যখন ফিরছি, তখনো শোনা যাচ্ছে মঞ্চ থেকে আওয়াজ, ‘তোমরা কি বই পড়বে?’ শিশুরা সমস্বরে বলল, ‘পড়ব’!

নতুন বইয়ের খোঁজে

চীনা বিপ্লবের নেতা মাও সে-তুং যে কবিতাও লিখেছেন, তা হয়তো অনেকের অজানা। মাও সে-তুংয়ের কবিতার বাংলা অনুবাদ নিয়ে হাজির হয়েছে লালপিঁপড়া প্রকাশনী। ভাষান্তর করেছেন দিলারা রিঙকি।

জওহরলাল নেহরু ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস ভারতের দুই মহান স্বাধীনতাসংগ্রামী। ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে এ দুজনের পথচলাকে তুলে ধরা হয়েছে ‘নেহরু অ্যান্ড বোস-প্যারালাল লাইভস’ বইয়ে। রুদ্রাংশু মুখার্জীর লেখা বইটি অনুবাদ করেছেন জাহিদ হোসেন। বইটি বেরিয়েছে অন্বেষা প্রকাশন থেকে।

গতকাল তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ১৯৯টি।

অন্যান্য আয়োজন

বিকেলে ছিল শিল্পী কলিম শরাফীকে নিয়ে আলোচনা। এতে শিল্পী অণিমা রায় বলেন, ‘কলিম শরাফী সেই বিরল প্রতিভার অন্তর্গত, যার কণ্ঠস্বর সংগীতের সুষমা বহনের পাশাপাশি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের সংকটময় মুহূর্তে হয়ে উঠেছিল অস্তিত্ব-সংরক্ষণের উচ্চারণ। তিনি যেমন দীর্ঘকাল সংগীতসাধনা করেছেন, তেমনি সংগীতকে প্রতিষ্ঠিত করতে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।’

আলোচনায় অংশ নেন সাইম রানা এবং সভাপতিত্ব করেন সাধন ঘোষ। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। আজ শনিবার মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। যথারীতি বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর। একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আজ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরান যুদ্ধে পালানটিরের ‘মেভেন’ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইল

নেপালের নির্বাচন: এগিয়ে বালেন শাহর দল, পাত্তা পাচ্ছেন না ওলি

ইরানকে গোপনে মার্কিন সামরিক গতিবিধির তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

৪০ বছর ধরে যে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল, ঘোল খাইয়েছে পশ্চিমাদের

অতিথির রণতরি ডুবল মার্কিন হামলায়, প্রশ্নের মুখে ‘মহাসাগরের রক্ষক’ মোদি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত