Ajker Patrika

ডিজেল সংকটে কনটেইনার ডিপোর কার্যক্রম ঝুঁকিতে

  • রপ্তানি পণ্যের বড় অংশ প্রক্রিয়াজাত হয় বেসরকারি ডিপোগুলোর মাধ্যমে।
  • এসব ডিপোর যন্ত্রপাতি পুরোপুরি ডিজেলনির্ভর।
  • জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে বিপিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি।
  • সংকট দীর্ঘায়িত হলে বন্দরের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৯: ০৬
ডিজেল সংকটে কনটেইনার ডিপোর কার্যক্রম ঝুঁকিতে
ফাইল ছবি

ডিজেল সংকটের কারণে চট্টগ্রামের বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলো চাহিদামতো ডিজেল সরবরাহ না করায় রপ্তানি পণ্য পরিবহন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন। এতে দেশের রপ্তানি প্রবাহের পাশাপাশি আমদানি কার্যক্রম এবং বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছে। গত সোমবার পাঠানো ওই চিঠিতে বিকডার সভাপতি খলিলুর রহমান ডিপোগুলোর দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান, যাতে রপ্তানি সরবরাহ শৃঙ্খল সচল রাখা যায়।

দেশের মোট রপ্তানি পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এসব ডিপোর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়। এখান থেকে কনটেইনার বন্দরে পাঠানো এবং পরে জাহাজে তুলে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিকডা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে অবস্থিত ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো দেশের প্রায় সব রপ্তানি কনটেইনার এবং প্রায় ২৫ শতাংশ আমদানি কনটেইনার পরিচালনা করে। এগুলো মূলত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়ক স্থাপনা হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন হাজার হাজার রপ্তানি কনটেইনার এখানে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পরে জাহাজে তোলা হয়। ফলে রপ্তানি প্রবাহ সচল রাখতে এসব ডিপোর নিয়মিত কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডিপোগুলোর প্রায় সব কার্যক্রম ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে রিচ স্ট্যাকার, সাইড লিফটার, টপ লোডার, ফর্কলিফট ও কনটেইনার ট্রেইলার। এসব যন্ত্রপাতি চালাতে ২১টি ডিপোর সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়।

বিকডার অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড সম্প্রতি জ্বালানি ঘাটতির কথা জানিয়ে ডিপোগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, তেল কোম্পানিগুলো মৌখিকভাবে সরবরাহ স্থগিতের বিষয়টি জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই অবস্থা চলতে থাকলে বেশির ভাগ ডিপো খুব দ্রুত তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়বে। এতে দেশের রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিকডার সভাপতি গত সোমবার বিপিসির চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন বলে জানান রুহুল আমিন সিকদার। চিঠিতে ডিপোগুলোর দৈনিক চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট তেল কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা বলেন, কিছু প্রশাসনিক বিধিনিষেধের কারণে দুই দিন ধরে ডিপোগুলোতে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় কিছু তথ্য চেয়েছে। আমরা আজই সেগুলো পাঠাচ্ছি। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। আশা করছি, বিষয়টির সমাধানের পর ডিপোগুলোতে আবার জ্বালানি সরবরাহ শুরু হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত