নারায়ণগঞ্জে পেশাদার অপরাধীদের চেয়ে এখন বেশি আতঙ্কের কারণ ‘কিশোর গ্যাং’। নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলির প্রতিটি এলাকায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন গ্যাং। বস্তি থেকে শুরু করে ধনীর সন্তানেরাও জড়িয়ে যাচ্ছে এসব গ্যাংয়ে। স্কুলপড়ুয়া ছেলেরাও ক্ষমতার মোহে যুক্ত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধ করে তারা আলোচনা আসছে প্রতিদিন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাড়ামহল্লায় মাদক কারবারি এবং উঠতি নেতাদের আধিপত্য ধরে রাখতেই কিশোরদের ব্যবহার করা হয়। এই বয়সে অপ্রতিরোধ্য মানসিকতা, হিরোইজম এবং ক্ষমতার মোহ থাকায় সহজেই ব্যবহার করা যায় তাদের। এলাকার কথিত বড় ভাইদের প্রশ্রয়ে যুক্ত হয়ে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই থানা-পুলিশের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের মারামারি, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, মাদক কারবার, ইভ টিজিং ও ছিনতাইয়ের নানান অভিযোগ আসে। স্থানীয়রা বলছেন, দল বেঁধে কিশোরেরা এসব অপরাধে জড়ানোয় ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না বাসিন্দারা।
পুলিশের তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জে যেসব স্থানে মানুষের বসবাস বেশি, সেখানেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর অন্যতম। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি, প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করার ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, মে মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের হাতে তিনটি খুন ও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
১৭ মে রাতে সদর থানার আলীরটেক এলাকায় সিয়াম সরদার (১৭) নামের এক ইজিবাইকচালকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যরা সিয়ামের ইজিবাইক ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রির জন্য এই খুন করে।
১৫ মে রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় সুব্রত নামে এক হোসিয়ারি শ্রমিককে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে জখম করে ১৫-২০ জনের কিশোর গ্যাং সদস্য। এ ঘটনায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২২ মে বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সুব্রত। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
মে মাসের শুরুতেই নারায়ণগঞ্জ শহরের নন্দীপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ১০-১২ সদস্য প্রকাশ্যে এক যুবকের ওপর হামলা চালায়। এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে ভুক্তভোগী বেশ কিছুদিন কিশোর গ্যাং সদস্যদের ভয়ে আড়ালে থাকলেও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ১৪ মে ফতুল্লা থানায় মামলা করেন।
১৩ মে ফতুল্লা থানার মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকায় এলাকায় নিউজ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক রাশিদ চৌধুরীকে ছুরিকাঘাত করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে ভিক্টোরিয়া ও পরে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা করেন।
১৭ মে রাতে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় সহপাঠীদের হাতে নিহত হয় দশম শ্রেণির ছাত্র ধ্রুব দাস (১৬)। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। যাদের ৯ জনই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর গ্যাং সদস্য। মূলত সিনিয়র-জুনিয়র বিরোধ থেকেই সহপাঠীকে হত্যা করে তারা।
১৪ মে সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়েতে আরাফাত হোসেন রিয়াদ (১৭) নামের এক কিশোরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। এ সময় তার চিৎকার শুনে আরেক বন্ধু এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
১৭ মে রাতে বন্দর থানাধীন রেললাইন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
একের পর এক কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রবের খবর উঠে আসায় আতঙ্কে রয়েছেন শহরের বাসিন্দারা। দিনে দিনে কিশোরেরা অপরাধী ও খুনিতে পরিণত হওয়ায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বাসিন্দারা।
সামাজিক সংগঠন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নূর উদ্দিন বলেন, ‘বিদেশি সংস্কৃতি ও মোবাইলের অপব্যবহারের কারণে ক্রমাগত নীতি নৈতিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। পারিবারিক শিক্ষা ও মানবিক জ্ঞান লোপ পাওয়ার কারণেই এ ঘটনা ঘটছে। মাদক ও অপরাধ থেকে কিশোরদের রক্ষা করতে নৈতিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এদের ছোট থেকেই সামাজিকভাবে নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। মা-বাবা সচেতন না হওয়ার কারণেই এই সন্তানেরা এখন সমাজে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
কিশোরদের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমির খসরু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে যারা জড়িত এবং যেসব গ্রুপ সক্রিয়ভাবে অপরাধ করে যাচ্ছে, তাদের তালিকা প্রস্তুতে কাজ চলছে। নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আধিক্য বেশি দেখা যায়। কখনো স্কুলছাত্র আবার কখনো বখে যাওয়া ছেলেরা অপরাধে জড়িয়ে যায়। মাদক ও ছিনতাইয়ে জড়িত অপরাধীরা এদের ব্যবহার করে। আমাদের মনিটরিংয়ের কারণে বিগত দিনে অনেকটা কমে এলেও এখন আবার বেড়েছে। আমরা ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করেছি, বাকিদেরও গ্রেপ্তারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীতার অভিযোগে ১ হাজার ৯৫৮ জন, অবৈধ অস্ত্রধারী ৩৩১ জন, চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ী ১৩ হাজার ২০ জন, ছিনতাইকারী ও দস্যুতা মামলার আসামি ২ হাজার ২১১ জন এবং চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী ৮০৮ জন রয়েছেন...
১০ জুন ২০২৬
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
২৬ মে ২০২৬
খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ বাহিনীর সদস্য সন্দেহে রাসেল (২৯) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। নগরীর লবণচরা থানার সাচিবুনিয়া রেললাইনের নির্জন একটি স্থানে গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। আহত যুবক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
২৬ মে ২০২৬
অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে তা পাচার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬ চীনা নাগরিকসহ আটজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ রিমান্ডে নেওয়ার এ আদেশ দেন।
১৪ মে ২০২৬