Ajker Patrika

অতিথি পাখির সুরক্ষায় ইসলামের দিকনির্দেশনা

মিজানুর রহমান
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯: ২৯
অতিথি পাখির সুরক্ষায় ইসলামের দিকনির্দেশনা

প্রতিবছর শীতের মৌসুমে অতিথি পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। তীব্র শীত ও খাদ্যসংকট থেকে বাঁচতে এসব পাখি নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশের অতিথি হয়। আমাদের দেশের খাল-বিল হাওর-বাঁওড়ে এসব পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। আর এ সুযোগটিই লুফে নেয় এক শ্রেণির অসাধু পাখিশিকারি। পাখিগুলোকে নির্মমভাবে হত্যা করে, যা দণ্ডনীয় অপরাধ। ইসলাম এ ধরনের কাজকে নিরুৎসাহিত করে। 

পশুপাখির প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া ইসলামের আদর্শ। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন দয়ার সাগর। তাঁর দয়া থেকে বাদ যায়নি সাধারণ কোনো কীটপতঙ্গও। পাখিদের জন্য তাঁর মমতা ছিল তুলনারহিত। একদিন এক বালক পাখির বাসা থেকে দুটি ছানা নিয়ে যাচ্ছিল। মা পাখিটা ছানার শোকে পাগলপ্রায় হয়ে ওই বালকের মাথার ওপর ওড়াউড়ি করতে লাগল। এই দৃশ্য দেখে মহানবী (সা.) বালকটিকে বললেন, ‘ছানা দুটি বাসায় রেখে এসো। দেখছ না মা পাখিটি কেমন পাগল হয়ে তোমার মাথার ওপর ওড়াউড়ি করছে, নিজের জীবনের মায়া পর্যন্ত নেই।’ তাঁর কথা শুনে ওই বালক ছানা দুটি পাখির বাসায় রেখে এল। মা পাখিটি ছানা দুটিকে পেয়ে অনেক আদর-সোহাগ করল, তা দেখে মহানবী (সা.) খুব খুশি হলেন। 

অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা গৃহপালিত পশুর প্রতি খুব যত্নশীল হবে। তাদের ঠিকমতো খেতে দেবে। তারা যাতে কষ্ট না পায় এমনভাবে থাকার ব্যবস্থা করবে। তারা যা বহন করতে পারে, তার অতিরিক্ত কিছু তাদের ওপর চাপিয়ে দেবে না।’ 

গর্তের কীটপতঙ্গদের জীবনরক্ষার জন্য মহানবী (সা.) গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। কারণ, গর্তে পিঁপড়া ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ থাকে। এতে তারা মারা যেতে পারে কিংবা কষ্ট পেতে পারে। পশুপাখির প্রতি এমন দয়া-মায়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মহানবী (সা.)-কে শুধু মানুষের নবী না বলে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা ‘বিশ্ববাসীর জন্য রহমত’ অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে। 

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, দুনিয়ার বুকে যদি কোনো পশু অন্য পশুকে আঘাত করে, আর আঘাতপ্রাপ্ত পশুটি প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ না পায়, তাহলে দুটো পশুকেই হাশরের ময়দানে উপস্থিত করানো হবে এবং অত্যাচারিত পশুটিকে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে; বাদ যাবে না অত্যাচারী মানুষেরাও। হাদিসে এসেছে, ‘দয়ালুকে আল্লাহ দয়া করেন। পৃথিবীতে যারা আছে তাদের দয়া করো, আসমানের মালিক তোমাদের দয়া করবেন।’ 

হাদিসগুলোর আলোকে বলা যায়, অসুস্থ পশুপাখির সেবা করা, তাদের আশ্রয় দেওয়া, অভুক্ত পশুপাখিকে খাওয়ানো বড় সওয়াবের কাজ। তাই আশ্রয়প্রার্থী কোনো পাখিকে শিকার করা জঘন্য অপরাধ। এভাবে নির্বিচারে পশুপাখি শিকার, ভোজন, ক্রয়-বিক্রয়ের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ইসলামি শিক্ষার বিপরীত। 

লেখক: ইমাম, মসজিদ আল আনাস (রা.), জিজান, সৌদি আরব

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত