পুলিশে আসছে বড় পদোন্নতি, তালিকায় ৪৯২ কর্মকর্তা

দীর্ঘদিনের জট কাটাতে পুলিশে বড় পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে পরিদর্শক থেকে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদমর্যাদার প্রায় ৪৯২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। বর্তমান সরকারের আমলে এটি হবে পুলিশের প্রথম বড় পদোন্নতি কার্যক্রম।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, পদোন্নতি প্রক্রিয়া নভেম্বরের মাঝামাঝি চূড়ান্ত হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১৬০ জন পরিদর্শক ও ট্রাফিক পরিদর্শককে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের প্রায় ১৫৫ জন এএসপিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ২৮তম, ২৯তম ও ৩০তম বিসিএসের প্রায় ৯৫ জন কর্মকর্তাকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ২২তম ও ২৪তম বিসিএসের ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তার অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি নিয়মিত করা এবং ২১তম, ২২তম ও ২৪তম বিসিএসের প্রায় ২০ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৭তম ও ১৮তম বিসিএসের দুজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি হতে পারেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আগের সরকারের আমলে দীর্ঘদিন অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে ছিল। সম্প্রতি কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর ঊর্ধ্বতন পদেও শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এসব কারণে পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, পেশাগত দক্ষতা, চাকরির রেকর্ড, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন ও গোয়েন্দা যাচাই প্রতিবেদন বিবেচনা করা হবে। আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা এবার অগ্রাধিকার পেতে পারেন। তবে পদোন্নতি না পাওয়া সব কর্মকর্তা রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার—এমন ধারণার সঙ্গে একমত নন অনেকে। তাঁদের মতে, মেধা, সততা ও চাকরির রেকর্ড যাচাই করেই পদোন্নতি দেওয়া উচিত।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি আটকে থাকায় পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও পেশাদারত্বকে প্রাধান্য দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া হলে বাহিনীতে আস্থার পরিবেশ ফিরতে পারে।









