Ajker Patrika

ট্রাম্পের ‘লক্ষ্যহীন’ যুদ্ধে অনিশ্চিত বাজার, তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়াল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ট্রাম্পের ‘লক্ষ্যহীন’ যুদ্ধে অনিশ্চিত বাজার, তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়াল
ফাইল ছবি

জ্বালানি বাজারে কোনো স্বস্তির লক্ষণ না থাকায় এবং এক প্রজন্মের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গতকাল বৃহস্পতিবার ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় জ্বালানি বাজারে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে অস্থিরতা চলতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, নিয়মিত বাজার সময়ের বাইরে লেনদেন হওয়া ব্রেন্ট ফিউচার (অর্থাৎ, যে ব্রেন্ট কেনাবেচা হবে এখন কিন্তু সরবরাহ করা হবে ভবিষ্যতের কোনো এক সময়) শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় বেলা ৩টায় ছিল ১০১ দশমিক ১৩ ডলার। টোকিও, সিউল ও হংকংসহ এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো শুক্রবার তীব্র পতনের মাধ্যমে লেনদেন শুরু করে। আগের রাতেই ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধরনের দরপতনের প্রভাব এতে পড়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালির অবরোধ বজায় রাখার অঙ্গীকার করার পর তেলের দামে সর্বশেষ এই উল্লম্ফন দেখা যায়। সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর পক্ষ থেকে পড়ে শোনানো এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরানের হুমকি একটি ‘লিভারেজ’, যা ‘ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বৃহস্পতিবার একই ধরনের কঠোর সুরে কথা বলেন। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি লেখেন, তেলের দাম বাড়ার চেয়ে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে বাধা দেওয়া ‘অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।’

ইরানের হুমকির কারণে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ পার হচ্ছে, যার বেশির ভাগই নিজেদের চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করছে। চীন ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচটি জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে। যুদ্ধের আগে যেখানে দৈনিক গড় ছিল ১৩৮টি জাহাজ। সংঘাত শুরুর পর অঞ্চলটিতে অন্তত ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে ইউকেএমটিও জানিয়েছে।

তেহরান এসব হামলার কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে বুধবার ওমান উপকূলের কাছে থাই পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলাও রয়েছে, যা জাহাজটিকে অচল করে দেয়। বাজার স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত দামের ঊর্ধ্বগতি থামাতে পারেনি। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বুধবার ঘোষণা দেয় যে সদস্য দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়বে। কিন্তু প্রতিদিন বৈশ্বিক সরবরাহে আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২ কোটি ব্যারেলের ঘাটতির আশঙ্কায় থাকা ব্যবসায়ীদের মধ্যে এই ঘোষণার প্রভাব খুবই সীমিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার সাময়িক লাইসেন্স জারি করে, যাতে সমুদ্রে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ তেল কিনতে দেশগুলোকে অনুমতি দেওয়া হয়। তবু বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি; ঘোষণার পরও ব্রেন্ট তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে রয়ে গেছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আদি ইমসিরোভিচ বলেন, ‘এই যুদ্ধের মূল সমস্যা হলো দৃশ্যমান কোনো লক্ষ্য নেই।’ তিনি বলেন, ‘এ কারণে তেল ব্যবসায়ীদের কাছে এই সংকটের শেষ কোথায় তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সংকীর্ণ জলপথে ইরানি হামলার ঝুঁকির কারণে পেন্টাগন এখনো এমন কোনো অভিযান শুরু করেনি। বৃহস্পতিবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বলেন, ওয়াশিংটন এখনই নৌবাহিনীর এসকর্ট দিতে প্রস্তুত নয়, তবে মাসের শেষ নাগাদ এমন অভিযান শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটা ঘটবে, কিন্তু এখনই নয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত