Ajker Patrika

৬ দশকে কুঁড়ি থেকে মহীরুহ ডানো

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৩, ১৩: ৪০
৬ দশকে কুঁড়ি থেকে মহীরুহ ডানো

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে...’-এই প্রবাদ প্রায় পৌনে ৩০০ বছর ধরে প্রচলিত। আক্ষরিক অর্থের বাইরে এর মধ্য দিয়ে সন্তানের সার্বিক মঙ্গলের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠে। মানবশিশুর বিকাশে দুধ অপরিহার্য। আর কোনো খাবারে এর অভাব পূরণ হয় না। এর মধ্যে কিছু পুষ্টিগুণ আছে, যা অন্য কোনো খাবারে নেই। 

বিবিসি’র এক প্রতিবেদন বলছে, ৩ লাখ বছরের মানব প্রজাতির ইতিহাসে দুধপান তুলনামূক নতুন অভ্যাস। ১০ হাজার বছর বা তারও আগে মানুষের দুধপান ছিল বিরল ঘটনা, হয়তো কোনো অনুষ্ঠানে দুয়েকবার। পশ্চিম ইউরোপে প্রাকযুগের খামারি ও পশুপালকদের মধ্যে নিয়মিত দুধপানের চল ছিল। এসব মানুষই প্রথম গরুসহ অন্য গৃহপালিত পশুর সঙ্গে বাস করা শুরু করে। 

আজকের দিনে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও বিশ্বের অন্য জায়গায়ও দুধপান সাধারণ অভ্যাস। ভারতীয় উপমহাদেশে দুধপানের অভ্যাস খুঁজে পাওয়া যায় প্রায় ৬ হাজার বছর আগে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুধপান থেকে দুগ্ধজাত নানা খাবার যোগ হয়েছে। 

দুধ উৎপাদন ও বিপণের আয়োজনে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান আরলা। ১৪০ বছর আগে ১৮৮০ সালের দিকে সুইডেন ও ডেনমার্কে সমবায়ের ভিত্তিতে তৈরি হয় এই প্রতিষ্ঠান। এখন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার খামারি সরাসরি যুক্ত এর সঙ্গে। খামার থেকে গ্রাহকদের টেবিলে পণ্য পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো যাত্রায় মান নিয়ন্ত্রণ করে আরলা। 

দুধ উৎপাদন ও বিপণের আয়োজনে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান আরলা। আরলার নিয়মিত পণ্য ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হলো ডানো, যা বাংলাদেশে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছে। এছাড়া আছে আরলার পাঁচ ধরনের ইউএইচটি দুধ, ফ্ল্যাগশিপ মাখনের ব্র্যান্ড লুরপক, পনিরের ব্র্যান্ড ক্যাস্টেলো।

বাংলাদেশে ডানোর বয়স ছয় দশক পেরিয়ে গেছে। ১৯৬১ সালে ডানোর যাত্রা শুরু হয় পূর্ব পাকিস্তানে। ইতিহাসের পথ ধরে ডানোর পথচলা অনেক বিস্তৃত। শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে গুঁড়া দুধের পরিপূরক নাম হয়ে ওঠা ডানো। আর ২০১৩ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের কার্যক্রম শুরু করেছে আরলা। 

গত ছয় দশকে আর্থ-সামাজিক উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশে ডানোর পণ্যে বৈচিত্র্য এসেছে বেশ। দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ডানো পাওয়ার ও ডানো ডেইলি পুষ্টির পাশাপাশি ডানো নিয়ে এসেছে আরও অনেক পুষ্টিকর ও সুস্বাদু দুগ্ধজাত পণ্য। তবে এসব পণ্য বাংলাদেশে তৈরি হয় না, বিদেশ থেকে এনে শুধু প্যাকেটজাত করা হয়। 

আরলার জনসংযোগ বিভাগের প্রধান সালেহ উজ জামান আজকের পত্রিকা’কে বলেন, গাজীপুরে আরলার নিজস্ব কারখানায় এসব গুঁড়া দুধ সঠিক মান নিয়ন্ত্রণ করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। এ কারণে পনির, মাখন, ইউএইচটি, ইয়োগার্ট, গুঁড়া দুধসহ সব পণ্যের গুণগত মান থাকে অটুট। 

বাংলাদেশের মানুষ ভোজনরসিক। রেস্তোরাঁয় তো বটেই, বাড়িতেও সুস্বাদু খাবার রান্নায় তাদের জুড়ি মেলা ভার। খাবারের স্বাদ আরও বাড়িয়ে তুলতে রেস্তোরাঁর শেফ আর গৃহিণীদের জন্য আরলা প্রো ব্যানার এনেছে বিভিন্ন ধরনের পনির ও মাখন।

গাজীপুরে আরলার নিজস্ব কারখানায় গুঁড়া দুধ মান নিয়ন্ত্রণ করে প্যাকেটজাত করা হয়।সালেহ উজ জামান বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে প্রস্তুত দুধকে পরিপূর্ণ খাবারে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আরলা। ব্র্যান্ডগুলোকে ‘ফিউচার অব ডেইরি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ভিশন নিয়ে কাজ চলছে। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে গুঁড়া দুধ খাওয়ার মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিত করতে শিখিয়েছে ডানো। রান্নাঘর থেকে রেস্তোরাঁ, সুদৃশ্য টি-টেবিল থেকে মোড়ের চায়ের দোকানে কিংবা উৎসব-পার্বণের খাবার তৈরিতে ডানো বড় বদল এনেছে। 

বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের স্বীকৃতিতে দেশের ‘সেরা মিল্ক ব্র্যান্ড’ হিসেবে আট বছর ধরে প্রথম হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক এই ব্র্যান্ড। সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কানটার ওয়ার্ল্ড প্যানেলে’র প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জনপ্রিয় ডেইরি ব্র্যান্ডের নাম ডানো। কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টির গুণাগুণ ধরে রাখতে সক্ষম হওয়ায় বিশ্বব্যাপী আস্থা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছে এটি। 

২০২২ সালের শুরুতে আরলা ফুডস বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের অগ্রণী দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অভ্যন্তরীণ দুগ্ধ খাত উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে একাত্মতায় টেকসই উপায়ে অধিকতর উন্নতমানের দুগ্ধ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। 

১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ডানোর যাত্রা শুরুর হয়। ছয় দশকে বাংলাদেশে অর্জনের কথা তুলে ধরে সালেহ উজ জামান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আরলার সবচেয়ে বড় বাজার বাংলাদেশ। কয়েক বছরের মধ্যেই ইউরোপের দেশগুলোর বাইরের ১৩০টি দেশের তালিকার প্রথম পাঁচটিতে উঠে আসতে পারে বাংলাদেশ। 

আরলার টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এই মুখপাত্র বলেন, স্থানীয় দুধের উৎপাদনশীলতা, গুণমান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আরলা। এজন্য প্রাণ ডেইরির পাশাপাশি সলিডারিদাড, ইন্টিগ্রেটেড ডেইরি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, এসইজিইএস ইনোভেশন এবং ডেনিশ এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কাউন্সিলের সঙ্গেও অংশীদারিত্ব শুরু করছে আরলা। 

সালেহ উজ জামান বলেন, ‘এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল-আরলার বিগ ফাইভ ফার্মিং মডেলকে ১০,০০০ বাংলাদেশি কৃষকদের মাঝে পরিচিত করা এবং যথার্থভাবে প্রয়োগ করা। আশা করা যাচ্ছে, এর মাধ্যমে শুধুমাত্র দুগ্ধ উৎপাদনের মান ও পরিমাণই উন্নত হবে না, এটি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

বুড়ো বয়সে আমাকে দেখার আশায় সন্তানকে বড় করিনি: অঞ্জন দত্ত

ইরান যুদ্ধে কারা হারল, জিত কাদের

কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকে আটক করায় থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত