Ajker Patrika

ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ০৮
ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এ খবরটি এমন একসময়ে এল, যার অল্প আগেই খবরে প্রকাশ পেয়েছে যে ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা ভেঙে পড়ায় এই দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।

কিছুটা কমার পরও বৈশ্বিক তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্টের দাম ব্রিটিশ মান সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলারে। তবে এশিয়ার শেয়ারবাজার এই অচলাবস্থাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। আজ সোমবার বাজার খোলার সময় সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জাপানের বেঞ্চমার্ক নিক্কেই ২২৫ সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে সকালের লেনদেনে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ ত্যাগ করায় গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। কারণ, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠক আর সম্ভব হয়নি।

এদিকে, আজ সোমবার আরাঘচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কূটনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতেই তেহরান এই উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে রোববার ওমানে সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করেই তিনি এই রাশিয়া সফরে যান। এমন একসময়ে তাঁর এই সফর হচ্ছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নাজুক যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকেরা যখন অচলাবস্থা ভাঙতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন তেহরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে এবং বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের বড় একটি অংশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ওই প্রণালি দিয়ে মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত