Ajker Patrika

আস্থার সংকটে বাংলাদেশ, কমছে বিদেশি বিনিয়োগ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আস্থার সংকটে বাংলাদেশ, কমছে বিদেশি বিনিয়োগ
গ্রাফিক্স: আজকের পত্রিকা

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি আমদানিতে বিলম্ব, শিল্পের সরবরাহব্যবস্থার ঘাটতি এবং রাজনৈতিক-সামাজিক অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে বিদেশিদের আস্থাকে দুর্বল করেছে। ফলে তাঁরা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন, সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আরও সতর্কভাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহে। আর এই ধীরগতি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় ক্রমেই পিছিয়ে দিচ্ছে।

গতকাল সোমবার ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) ‘ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার উদ্বেগজনক তথ্যও প্রকাশ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এফডিআই মজুত ছিল ১৮.২৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ভিয়েতনামের ছিল ২৪৯.১৪ বিলিয়ন ডলার, কম্বোডিয়ার ৫২.৬৭ বিলিয়ন ডলার এবং ইন্দোনেশিয়ার ৩০৫.৬৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশের তুলনায় ভিয়েতনাম ১৩ গুণ, ইন্দোনেশিয়া প্রায় ১৭ গুণ এবং কম্বোডিয়া প্রায় ৩ গুণ এগিয়ে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি যে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল, সেটি ২০২৪ সালে কমে তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছায়। এ ছাড়া ২০১৯-২০২৪ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছায়। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এফডিআই প্রবাহে এ নেতিবাচক অবস্থা কাটিয়ে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রতিবেদনে সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ নীতি, একীভূত আইনকাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ডিজিটালাইজেশনের সুপারিশ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আঙ্কটাডের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ বিভাগের পরিচালক ন্যান লি কলিন্সের ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন। পরে সংস্থাটির লিগ্যাল অফিসার কিয়োশি আদাচি মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস পারারির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পথনকশা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, অনেক পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের ঘাটতিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে এখন সমন্বয় এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বাভাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী খুন: মিথ্যা জবানবন্দি দিয়ে ধরা খেল খুনি, প্রকাশ্যে রোমহর্ষক তথ্য

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তাকে চলন্ত অটোরিকশা থেকে ফেলে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা: র‍্যাব

দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ: ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা খুন

এবার এলপিজি কার্ডের ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা: শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী কারাগারে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত