Ajker Patrika

আগামী ৫ বছরে গ্রামীণ উন্নয়নে জোর দেবে সরকার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আগামী ৫ বছরে গ্রামীণ উন্নয়নে জোর দেবে সরকার

এবারের বাজেটে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বাবদ ৪১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ব্যয় হবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চলতি বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪০ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪২ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় এবার বরাদ্দ কমছে ২ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি বছর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের জন্য বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ বছর পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৬ কোটি টাকা।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের আগামী ৫ বছরের বেশির ভাগ উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের গ্রামকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ গ্রামে বাস করেন, গ্রামের মানুষকে স্বাবলম্বী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছর ও মধ্য মেয়াদে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, নারী ও যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনার অনুযায়ী, পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পরামর্শ সেবা সম্প্রসারণ, ২০০টি উপজেলায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সমবায়ের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, একই সাথে সহজ ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র ঋণ ও নারী উদ্যোক্তা ঋণ ব্যবস্থার সংস্কার এবং জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষক ও নারীদের আত্ম-কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, ‘গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রামীণ অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থাকে গতিশীল করছে। সে কারণে আমরা আগামী অর্থবছরে সড়ক, সেতু, গ্রোথ সেন্টার উন্নয়ন ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দুর্যোগ সহনশীলতা শক্তিশালী করার কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।’

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতে সুশাসন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নারী-যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সুষম ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। একই সাথে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ সড়ক ও বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় ৯৩ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সারা বছর চলাচলের উপযোগী সড়ক সুবিধার আওতায় এসেছে, যা পর্যায়ক্রমে ১০০ শতাংশ এ উন্নীত করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সেবা ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন জোরদার করার মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ, শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসমূহে বর্ষার আগেই জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, ড্রেন সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নগর এলাকায় সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যা নগর জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত