Ajker Patrika

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ৬১৭ কোটি টাকার লেনদেন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৪৫
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ৬১৭ কোটি টাকার লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যিক সাফল্য ও রপ্তানির সম্ভাবনার ইতিবাচক বার্তা দিয়ে শেষ হলো পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬। ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই মেলায় মোট ৬১৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।

এর মধ্যে ৩৯৩ কোটি টাকার পণ্য ও সেবা কেনাকাটা করেছেন দেশীয় ক্রেতারা। বাকিটা বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে রপ্তানি আদেশ হিসেবে পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি টাকার সমান।

গতকাল শনিবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

আয়োজকেরা জানান, এবারের মেলায় অংশ নেয় ৩২৯টি দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, পণ্য প্রদর্শন, ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান, ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্ত প্রতিপালন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মানা, ডিজিটাল কনটেন্ট, রপ্তানিকারক ও উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশনের মতো সূচক বিবেচনায় এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান থেকে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে রপ্তানি আদেশ পেয়েছে, যা এই মেলার সবচেয়ে বড় অর্জন। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব রপ্তানি আদেশ এসেছে। দেশের বহুমুখী পাটপণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হাইজিন পণ্য, কসমেটিকস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, হোম টেক্সটাইল ও নকশিকাঁথার মতো পণ্যগুলোয় ক্রয়াদেশ রেখেছেন বিদেশি ক্রেতারা।

স্থানীয় বাজারেও বিক্রি বেড়েছে আশাতীতভাবে। গত বছরের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও খাদ্য স্টলগুলোর বিক্রি ছিল উল্লেখযোগ্য। অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, মাসজুড়েই দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল ভালো এবং বিক্রি ছিল সন্তোষজনক। পোশাক, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিকস ও গৃহসজ্জা পণ্যের চাহিদা তুলনামূলক বেশি ছিল।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পের পণ্য একসঙ্গে প্রদর্শিত হয়েছে। পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, কসমেটিকস, গৃহসজ্জাসামগ্রী, খেলনা, স্টেশনারিজ, হোম ডেকর, ক্রোকারিজ, হস্তশিল্পজাত পণ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইনসামগ্রী, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট শিল্পের পণ্য ও সেবার পাশাপাশি ফাস্টফুড ও নানা ধরনের সেবাসামগ্রী দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করেছে।

এবারের মেলায় নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্যের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কারা অধিদপ্তর বাঁশের তৈরি প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য প্রদর্শন করে। জয়িতা ফাউন্ডেশন নিয়ে আসে পাটপণ্য, অর্গানিক হেয়ার অয়েল ও খাদ্যপণ্য। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন প্রদর্শন করে ভেজিটেবল ডাইংয়ের পোশাক। তাঁত বোর্ডের ঢাকাই মসলিন ও মসলিন স্কার্ফ, জেডিপিসির পাটের ট্যাপেস্ট্রি, অ্যাপেক্সের দীর্ঘস্থায়ী রেডি-টু-ইট খাবার এবং টি-বোর্ডের রোজেলা ও ব্লু টি দর্শনার্থীদের বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।

এ ছাড়া রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের লক্ষ্য সামনে রেখে এবারের মেলায় আটটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এসব সেমিনারে সরকারি সংস্থা, বাণিজ্য সংগঠন ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দর্শনার্থীদের জন্য ছিল সাংস্কৃতিকসন্ধ্যা, শিশুপার্ক, সিনিয়র সিটিজেন কর্নার, মা ও শিশুসেবাকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত