Ajker Patrika

সিগারেট ও তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ১৮: ১২
সিগারেট ও তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর নজরদারির প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

রাজস্ব সম্ভাবনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির ‘সর্বোচ্চ সমন্বয়’ করতে অর্থমন্ত্রী তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এ প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ‘সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চস্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চস্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।’

বর্তমানে ১০ শলাকার এক প্যাকেট নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৬০ টাকা। সেই হিসাবে এই স্তরে দাম বাড়ছে দুই টাকা। মধ্যম স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম বর্তমানে ৮০ টাকা। তা ৯২ টাকা হলে ১২ টাকা বাড়তি গুনতে হবে ভোক্তাদের। উচ্চস্তরের সিগারেটে বর্তমানে প্রতি প্যাকেটের দাম ১৪০ টাকা। এই স্তরে বাড়ছে ২০ টাকা। বাজেটে সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চস্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রে। এই স্তরে ১০ শলাকার সিগারেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাজেটে এবার প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর নির্ধারিত হারে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিকোটিন পাউচের ক্ষেত্রে (প্রতি ১০ গ্রাম) ৫০০ টাকায় ৪০ শতাংশ এবং হিটেড টোব্যাকোর ক্ষেত্রে (প্রতি ১০ শলাকা) ২১০ টাকায় ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ তামাকপণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে তামাকপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিবিড় মনিটরিংয়ের জন্য ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ পদ্ধতি প্রণয়নের প্রস্তাব রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে নতুন কোড সৃজনপূর্বক ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছেন। সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর উচ্চ হারে কর বজায় রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য করপোরেট করহার ৪৫ শতাংশ ও এর সঙ্গে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অবৈধ তামাকজাত পণ্যের বাণিজ্য প্রতিরোধ ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সরকার ‘ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য কাউন্টিং ডিভাইস ও আধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন; প্রতিটি সিগারেটের স্ট্যাম্পে কিউআর বা এআর কোড সংযোজন; অবৈধ পণ্যের তথ্য জানাতে নাগরিকদের জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু; তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ব্যবস্থা এবং বিড়ি ও সিগারেটের কাগজ আমদানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু নিবন্ধিত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই বিড়ি ও সিগারেটের কাগজ আমদানি করতে পারবে এবং এসব কাগজ খোলা বাজারে বা অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা যাবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত