মাহফুজুল ইসলাম, ঢাকা

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে গত বছরও ভারতীয় মালিকানাধীন পাঁচটি কোম্পানি ছিল। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর পারফেক্ট লেভেল প্রাইভেট লিমিটেড নামের ভারতীয় কোম্পানি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়। শুধু এই কোম্পানি নয়, অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানির বিনিয়োগও স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে তৎকালীন সরকারের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হওয়া বিশেষ এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি। প্রকল্পটির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকার। প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখন আর কোনো আলোচনা হচ্ছে না। অনিশ্চিত এই ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পের পরিচালককে সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ধরনের কার্যক্রম অনিশ্চিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ প্রকল্পের আর কোনো কাজ হবে না। এমনকি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সিদ্ধান্তও বাতিল হতে পারে। কারণ, এখনো উন্নয়নকাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়নি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সচিব (অতিরিক্ত সচিব) ও ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকল্পের জন্য যা করণীয় ছিল, তা করা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না থাকায় সেটি এখন স্থবির হয়ে আছে।’
প্রকল্পটির কী হবে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ বেজার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাগজপত্রের সব কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে, কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে ভারতীয় অঞ্চলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে।’
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান ও চীনের পাশাপাশি ভারতকে আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়া হয়েছে, এটা সরকারের ভালো উদ্যোগ ছিল। তবে ভারতের যদি আগ্রহ না থাকে, তবে তাদের সঙ্গে বসতে হবে এবং তাদের শেষ চিন্তা জানতে হবে। দেশের সম্পদ বছরের পর ফেলে রাখা যাবে না, বিকল্প চিন্তা করতে হবে।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একাধিকবার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। তারপরও ভারত বাস্তবায়ন করছে না। সুতরাং সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কারণ, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সম্পদ রেখে দিতে পারি না।’
বেজার তথ্যমতে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভারতীয় প্রকল্পের পাশাপাশি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায়ও অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) তৈরির জন্য ২০১৫ সালে একটি সমঝোতা চুক্তি করেছিল দুই দেশের সরকার; কিন্তু সেটিও আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে ২০২১ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসা পারফেক্ট লেভেল প্রাইভেট লিমিটেড নামের ভারতীয় কোম্পানি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানটি।
বেজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা নেই বলে ভারতীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কোম্পানিতে ৫০১ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল। এই কোম্পানির উদ্যোক্তারা চলে গেলেও বর্তমানে বেজায় ভারতীয় এশিয়ান পেইন্টস, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, রোহিত সারফ্যাক্ট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেড ও সান ফার্মা কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রয়েছে। চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। আর সান ফর্মা কার্যক্রম চালাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে।
২০১৮, ২০১৯ ও ২০২২ সাল থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া চারটি কোম্পানির জন্য সরকার ৫০ একরের বেশি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে গত বছরও ভারতীয় মালিকানাধীন পাঁচটি কোম্পানি ছিল। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর পারফেক্ট লেভেল প্রাইভেট লিমিটেড নামের ভারতীয় কোম্পানি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়। শুধু এই কোম্পানি নয়, অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানির বিনিয়োগও স্থবির হয়ে পড়েছে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে তৎকালীন সরকারের সময় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হওয়া বিশেষ এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি। প্রকল্পটির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকার। প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখন আর কোনো আলোচনা হচ্ছে না। অনিশ্চিত এই ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পের পরিচালককে সরিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব ধরনের কার্যক্রম অনিশ্চিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ প্রকল্পের আর কোনো কাজ হবে না। এমনকি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সিদ্ধান্তও বাতিল হতে পারে। কারণ, এখনো উন্নয়নকাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়নি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সচিব (অতিরিক্ত সচিব) ও ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন প্রকল্পের সাবেক পরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রকল্পের জন্য যা করণীয় ছিল, তা করা হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না থাকায় সেটি এখন স্থবির হয়ে আছে।’
প্রকল্পটির কী হবে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ বেজার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কাগজপত্রের সব কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে, কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে ভারতীয় অঞ্চলের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে।’
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান ও চীনের পাশাপাশি ভারতকে আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল দেওয়া হয়েছে, এটা সরকারের ভালো উদ্যোগ ছিল। তবে ভারতের যদি আগ্রহ না থাকে, তবে তাদের সঙ্গে বসতে হবে এবং তাদের শেষ চিন্তা জানতে হবে। দেশের সম্পদ বছরের পর ফেলে রাখা যাবে না, বিকল্প চিন্তা করতে হবে।
জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একাধিকবার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। তারপরও ভারত বাস্তবায়ন করছে না। সুতরাং সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কারণ, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই সম্পদ রেখে দিতে পারি না।’
বেজার তথ্যমতে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভারতীয় প্রকল্পের পাশাপাশি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায়ও অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) তৈরির জন্য ২০১৫ সালে একটি সমঝোতা চুক্তি করেছিল দুই দেশের সরকার; কিন্তু সেটিও আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে ২০২১ সালে বাংলাদেশে ব্যবসা করে আসা পারফেক্ট লেভেল প্রাইভেট লিমিটেড নামের ভারতীয় কোম্পানি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে বস্ত্র খাতের প্রতিষ্ঠানটি।
বেজা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা নেই বলে ভারতীয় উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কোম্পানিতে ৫০১ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল। এই কোম্পানির উদ্যোক্তারা চলে গেলেও বর্তমানে বেজায় ভারতীয় এশিয়ান পেইন্টস, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, রোহিত সারফ্যাক্ট্যান্ট প্রাইভেট লিমিটেড ও সান ফার্মা কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রয়েছে। চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। আর সান ফর্মা কার্যক্রম চালাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে।
২০১৮, ২০১৯ ও ২০২২ সাল থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া চারটি কোম্পানির জন্য সরকার ৫০ একরের বেশি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদালতের আদেশ মেনে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের আইনানুগ বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
এখন থেকে পদ্মাসেতু পারাপারে যাত্রীরা টোল পরিশোধ করতে পারবেন নগদের মাধ্যমে। আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ডাকঘরের ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা নগদ।
২ ঘণ্টা আগে
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও গতিশীল করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালের সঙ্গে ১১টি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বন্ড সুবিধা বহাল ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চান দেশের তৈরি পোশাক কারখানা মালিকেরা। ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এই দাবি জানান তাঁরা।
৪ ঘণ্টা আগে