Ajker Patrika

আমদানি পরিস্থিতি: এলসি বাড়লেও নিষ্পত্তির গতি ধীর

  • এলসি খোলা ৭.০৬%, প্রকৃত আমদানি মাত্র ০.০৯%।
  • কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যে আমদানি এখনো কম।
  • চলতি অর্থবছরে আমদানি ১০% বাড়ার আশা।
মৃত্তিকা সাহা, ঢাকা
আমদানি পরিস্থিতি: এলসি বাড়লেও নিষ্পত্তির গতি ধীর
ফাইল ছবি

ব্যবসায়ীদের আমদানি পরিকল্পনায় কিছুটা আস্থা ফিরলেও এর প্রতিফলন এখনো প্রকৃত আমদানিতে দেখা যাচ্ছে না। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলা বেড়েছে ৭ দশমিক ০৬ শতাংশ। বিপরীতে এলসি নিষ্পত্তির মাধ্যমে পরিমাপ করা প্রকৃত আমদানি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে ৭ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরে তা ছিল ৬ হাজার ৯৮৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় ৪৯৩ কোটি ডলার। তবে এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ ৭ হাজার ৩৪ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৪১ কোটি ডলার—বৃদ্ধি মাত্র ৭ কোটি ডলার।

এলসি খোলা মানে সঙ্গে সঙ্গে পণ্য দেশে আসা নয়। এলসি খোলার পর পণ্য আমদানি, নথিপত্র যাচাই ও অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শেষে তা নিষ্পত্তি হয়। তাই প্রকৃত আমদানির চিত্র বুঝতে এলসি নিষ্পত্তিকে তুলনামূলক বেশি কার্যকর সূচক হিসেবে দেখা হয়।

অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেও আমদানিতে দুর্বলতা ছিল। জুলাই-মার্চ সময়ে শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে। মধ্যবর্তী পণ্যের এলসি খোলা কমে ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং নিষ্পত্তি কমে ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলে শেষ প্রান্তে এলসি খোলার প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তা এখনো বাস্তব আমদানিতে বড় গতি আনেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, এলসি খোলা বাড়া মানে বিনিয়োগ বাড়ছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেওয়া যাবে না। আগামী কয়েক মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়ে কি না, সেটি দেখতে হবে। তবে এলসি খোলায় ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের অনিশ্চয়তা কিছুটা কমার ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে আমদানি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা বাজারকে তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যদিও সম্প্রতি ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে। আমদানির গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডলারের দাম আরও বাড়বে কি না, সে বিষয়ে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হলে বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তাঁর মতে, এ জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যবসাবান্ধব পদক্ষেপ নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীল খাতে নেওয়া উদ্যোগের প্রভাবে চলতি অর্থবছরে আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। বেসরকারি খাতকে সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে। এর ফলে বন্ধ ও দুর্বল শিল্পকারখানা উৎপাদনে ফিরলে আমদানির চাহিদা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, কলকারখানা সচল রাখতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে এলসি নিষ্পত্তি ও বিনিয়োগ—দুটিই বাড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত