
১৮ বছরের বেশি বয়সী সব নাগরিককে ধাপে ধাপে সর্বজনীন পেনশন কাঠামোর আওতায় আনতে চায় সরকার। টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গত শনিবার অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ সচিব এ কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয় আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্মশালায় অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, দেশের সর্বস্তরের জনগণকে পেনশন কাঠামোর আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ১৮ বছরের বেশি বয়সী সকল জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সুসংগঠিত সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
কর্মশালায় সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাস্তবায়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, নিবন্ধন ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়, বিধিমালা সংশোধন এবং আগামী দুই মাসের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে স্কিমগুলোকে আরও জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় বিধি সংশোধনের সুপারিশও করা হয়।
দেশে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হয় ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট। শুরুতে সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকদের জন্য চারটি পৃথক স্কিম চালু করা হয়। পরে ধাপে ধাপে এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম শুরুর ১০ মাসের মাথায় চারটি স্কিমে নিবন্ধন সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। ওই সময় অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে ৮৬ কোটির বেশি টাকা জমা পড়ে। ওই অর্থের একটি অংশ সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগও করা হয়েছে। পরে প্রতি মাসেই সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যোগ্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং সে অনুযায়ী তাদের জমাকৃত চাঁদার পরিমাণ ও তার লাভজনক বিনিয়োগ বাড়তে থাকে।
তবে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ছিল। এই কর্মসূচিকে ঘিরে তখনকার বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও সমালোচকদের একাংশ নানা প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ দীর্ঘ মেয়াদে তহবিল ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও উদ্যোগটি অব্যাহত থাকে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি বহাল রেখেছিল। বর্তমান সরকার এটিকে আরও বেগবান করার চেষ্টা করছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে। বিশেষ করে কম আয়ের মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের এই কাঠামোর আওতায় আনতে নতুন করে প্রচারণা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থ সচিব বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও সহজলভ্য করতে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ জন্য সেমিনার, কর্মশালা ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সভা আয়োজনের নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ কৌশল তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশে ও বিদেশে সরকারি অফিস ও বাংলাদেশ মিশনগুলোকে পেনশন স্কিমের প্রচারণায় যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আরও বেশি মানুষ এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

বিদেশে যেতে ভিসা পেয়েছেন, কিন্তু শর্ত হিসেবে জমা দিতে হবে মোটা অঙ্কের ‘ভিসা বন্ড’ বা সিকিউরিটি ডিপোজিট। এত দিন এই অর্থ বিদেশে পাঠানো ছিল বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য জটিল ও ভোগান্তিপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। অনেককে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে টাকা পাঠানোর ঝুঁকিও নিতে হতো। এবার সেই জটিলতা কমাতে নতুন সুবিধা দিল...
১ ঘণ্টা আগে
টিসিবির কার্যক্রমেও বড় ধরনের সংস্কারের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় রূপান্তর করা হচ্ছে। ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালাও প্রণয়ন করা হচ্ছে।
৬ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের অফিশিয়াল ট্রেনিং অ্যান্ড গ্রোথ পার্টনার হিসেবে যুক্ত হলো গ্লো অ্যান্ড লাভলী। আজ সোমবার (১১ মে) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই পার্টনারশিপের ঘোষণা দেওয়া হয়।
৭ ঘণ্টা আগে
তেলের দামে আজ সোমবার বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের জবাব ‘অগ্রহণযোগ্য’। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে