Ajker Patrika

আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

  • বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন
  • নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
  • মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা চায় নিউজিল্যান্ড
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) বা আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে যোগ দিতে চাইছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে জোটের অন্যতম সদস্য নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব দেয়।

গতকাল রোববার ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (এমসি-১৪) ফাঁকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব আলোচনা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য-বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে।

প্যালেস দ্য কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) হলো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৫টি দেশ নিয়ে গঠিত বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (এফটিএ)। এটি ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হয় এবং ১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে কার্যকর হয়। চীন নেতৃত্বাধীন এ জোটে আসিয়ানের ১০ দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড ও চীন অন্তর্ভুক্ত। এই জোট বৈশ্বিক জিডিপির ৩০ শতাংশ এবং জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নবনির্বাচিত সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় এবং বাণিজ্যভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে।

মন্ত্রী আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে (আরসিইপি) যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি নিউজিল্যান্ডের সমর্থন চান। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভূ-অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী এ জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাজার বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ এরই মধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা চলমান।

নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করে বলেন, আরসিইপি জোটে বাংলাদেশ একটি উপযুক্ত অংশীদার হতে পারে। তিনি এ জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে টড ম্যাকক্লে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধানে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

একই দিন বাণিজ্যমন্ত্রীর আরও একটি বৈঠক হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে। এতে ইইউর পক্ষে নেতৃত্ব দেন কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে ইইউর কাছে প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানান, যাতে রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানি বাজার হিসেবে ইইউর সঙ্গে দ্রুত একটি মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ইইউর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং শ্রম খাতে চলমান সংস্কারের প্রশংসা করা হয়। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত এফটিএ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষে মূল্যায়ন করা হবে বলেও জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত