Ajker Patrika

ইপিবির প্রতিবেদন: মে মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.০৯ শতাংশ

  • এপ্রিলের তুলনায় বেড়েছে ৯.৮০ শতাংশ।
  • অর্থবছরের ১১ মাসে কমেছে ২.৫৫ শতাংশ।
  • অপ্রচলিত কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ইপিবির প্রতিবেদন: মে মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.০৯ শতাংশ
প্রতীকী ছবি

দেশের রপ্তানি আয়ে আবারও পতন দেখা দিয়েছে। বিদায়ী মে মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪০ কোটি ২৮ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কম। তবে আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪০ কোটি ২৮ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৪৭৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ৩৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঈদের ছুটির কারণে পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মে মাসের রপ্তানি আয়ে।

প্রতিবেদনে মাসভিত্তিক হিসাবে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে। এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। সেই তুলনায় মে মাসে বেড়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৯ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ কোটি ৬০ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ১১ মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ১১৫ কোটি ডলারের বেশি বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বরাবরের মতোই রপ্তানি আয়ের প্রধান ভরসা তৈরি পোশাক খাত। মে মাসে এ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। গত বছরের মে মাসে এ খাতের রপ্তানি আয় ছিল ৩৯১ কোটি ৯১ লাখ ডলার। তবে এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এপ্রিল মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে; আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার। সে হিসাবে পোশাক খাতে রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ঈদের ছুটি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রপ্তানি খাত চাপে রয়েছে। তবে সরকার যদি পোশাক খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে, তাহলে রপ্তানি আয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

সামগ্রিক রপ্তানি কমলেও অপ্রচলিত কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ওষুধ, প্লাস্টিক পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, মুদ্রণসামগ্রী, হোম টেক্সটাইল ও প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফলমূল এবং কাঁকড়া রপ্তানিতেও উন্নতি হয়েছে।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতেও চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে। একই সঙ্গে স্পেন, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, কানাডা, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত