জীবনবিমায় গ্রাহক যে প্রিমিয়াম জমা দেন, তার বড় অংশ ভবিষ্যতে দাবি পরিশোধ, বোনাস ও জীবন তহবিল (লাইফ ফান্ড) শক্তিশালী করার জন্য সংরক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু সেই অর্থ থেকে আইনের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে লাগামহীন ব্যবস্থাপনা ব্যয় করছে দেশের বেশির ভাগ জীবনবিমা কোম্পানি। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ৩৩টি জীবনবিমা কোম্পানি নিয়ম ভেঙে ৮৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করেছে।
আইডিআরএর পর্যালোচনা করা ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩৬টি জীবনবিমা কোম্পানির মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে ৯০২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অথচ আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ব্যয়ের সীমা ছিল ৮৭৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
বিমা আইন অনুযায়ী, জীবনবিমা কোম্পানিগুলো প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত সীমার বেশি ব্যবস্থাপনা ব্যয় করতে পারে না। এই সীমার উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকের প্রিমিয়ামের বড় অংশ জীবন তহবিলে সংরক্ষণ করা, যাতে ভবিষ্যতে দাবি পরিশোধ ও পলিসিধারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত কমিশন, প্রশাসনিক ব্যয় ও দুর্বল ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক কোম্পানি নিয়মিত এই সীমা অতিক্রম করছে।
আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গার্ডিয়ান লাইফ ইনস্যুরেন্স। প্রথম প্রান্তিকে ৫০ কোটি ১ লাখ টাকার অনুমোদিত সীমার বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় করে অতিরিক্ত ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা খরচ করেছে। অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির সিইও শেখ রাকিবুল করিম আজকের পত্রিকাকে জানান, আইডিআরএর তথ্য সঠিক নয়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেটলাইফ বাংলাদেশ ২৫৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার সীমার বিপরীতে ২৬৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় করে অতিরিক্ত ১১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র ফারইস্ট ইসলামী লাইফের। ৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকার অনুমোদিত সীমার বিপরীতে তারা ১৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় করে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা খরচ করেছে, যা নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণের বেশি। এ ছাড়া জীবনবিমা করপোরেশন ৯ কোটি ৫০ লাখ, ডেলটা ৮ কোটি ৭৭ লাখ, প্রাইম ইসলামী ৪ কোটি ২৯ লাখ, মেঘনা ৩ কোটি ৮৯ লাখ, শান্তা ৩ কোটি ৮৩ লাখ, বেঙ্গল ইসলামী ২ কোটি ৯৪ লাখ, রূপালী ২ কোটি ১৪ লাখ, জেনিথ ১ কোটি ৮৪ লাখ, সানলাইফ ১ কোটি ৬৪ লাখ, এনআরবি ইসলামিক ১ কোটি ৬৩ লাখ, পপুলার ১ কোটি ৬১ লাখ, প্রটেকটিভ ইসলামী ১ কোটি ৫৪ লাখ, প্রগ্রেসিভ ১ কোটি ৫২ লাখ, পদ্মা ইসলামী ১ কোটি ৪৬ লাখ, স্বদেশ ১ কোটি ৩৪ লাখ, আকিজ তাকাফুল ১ কোটি ৬ লাখ, ন্যাশনাল ১ কোটি ১ লাখ এবং আলফা ইসলামী (১৭ লাখ), আস্থা (১৫ লাখ), বায়রা (৪৯ লাখ), চার্টার্ড (৮৫ লাখ), গোল্ডেন (৬৬ লাখ), হোমল্যান্ড (২৮ লাখ), যমুনা (৯৭ লাখ), লাইফ ইনস্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশ (৩৯ লাখ), প্রগতি (৬৬ লাখ), সন্ধানী (১১ লাখ), সোনালী (২১ লাখ) ও সানফ্লাওয়ার (৪৮ লাখ) টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করেছে।
বিমা বিশ্লেষক জাহাঙ্গীর আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় গ্রাহকের প্রিমিয়ামের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও বিমা বিভাগের অধ্যাপক মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ব্যয়ের সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্যই গ্রাহকের অর্থ সুরক্ষা। তাই ধারাবাহিকভাবে সীমা অতিক্রমকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে আইডিআরএর মুখপাত্র ও পরামর্শক সাইফুননাহার সুমী বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করছে।

বাজুস জানিয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। তবে গয়নার নকশা ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হবে।
১ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকের কর্পোরেট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান কাজি শায়রুল হাসান।
২১ ঘণ্টা আগে
অননুমোদিত এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হলে কিংবা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করা যাবে।
১ দিন আগে
জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশের ডলার খরচ এক বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জ্বালানি আমদানিতে ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বাড়তি খরচ হয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।
১ দিন আগে