Ajker Patrika

রাজস্ব ঘাটতি ৮৭ হাজার কোটি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০১: ০৩
রাজস্ব ঘাটতি ৮৭ হাজার কোটি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়, আগারগাঁও, ঢাকা। ফাইল ছবি

রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরলেও লক্ষ্য অধরাই রয়ে গেছে। বিদায়ী অর্থবছর শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ রাজস্ব আদায় করতে পারেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, করজাল সম্প্রসারণ ও কর প্রশাসনের সংস্কার ছাড়া প্রতিবছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

এনবিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে সংস্থাটি ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। যদিও আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, তবু লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে থাকতে হয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণের সবচেয়ে বড় সমস্যা করের হার নয়; বরং করজালের সীমাবদ্ধতা, কর ফাঁকি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে বছর শেষে বড় ঘাটতি থাকবেই।

এই ঘাটতি নতুন নয়। স্বাধীনতার পর কোনো অর্থবছরেই বাজেটে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি এনবিআর। গত পাঁচ অর্থবছরের তথ্যেও ধারাবাহিক ঘাটতির একই প্রবণতা দেখা যায়।

২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৩৫ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। পরের বছর তা বেড়ে ৪১ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি দাঁড়ায় ৪৮ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে হয় ৯২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে ঘাটতি কিছুটা কমলেও এখনো রয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, রাজস্ব ঘাটতি মানে শেষ পর্যন্ত সরকারের ঋণনির্ভরতা বেড়ে যাওয়া। এতে সুদ ব্যয় বাড়ে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও চাপ তৈরি হয়। তাই শুধু উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ নয়, তা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

রাজস্বের সবচেয়ে বড় উৎস ভ্যাট খাত। বিদায়ী অর্থবছরে এই খাত থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। আয়কর থেকে এসেছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। তিনটি খাতে প্রবৃদ্ধি হলেও কোনো খাতেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে আদায়ে কিছুটা গতি ফিরে আসে। ওই মাসে মোট ৫৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে কাস্টমসে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ভ্যাটে ২২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং আয়করে ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, নতুন করদাতা শনাক্তে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্যবিনিময় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর কর প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠিন হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত