Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা, দেউলিয়া হয়ে ৩৪ বছরের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে মার্কিন এয়ারলাইনস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ১৭: ৪৫
ইরান যুদ্ধের ধাক্কা, দেউলিয়া হয়ে ৩৪ বছরের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে মার্কিন এয়ারলাইনস
আসন সংখ্যার দিক থেকে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম এয়ারলাইনস ছিল স্পিরিট। ছবি: অ্যাক্সিওস।

স্বল্পমূল্যে বিমান ভ্রমণের (বাজেট ট্রাভেল) সুযোগ দিয়ে আকাশপথে বিপ্লব ঘটিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্পিরিট এয়ারলাইনস। তবে দীর্ঘদিনের সাশ্রয়ী সেবা দেওয়ার পর এবার আর ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে পারল না তারা। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটি দাঁড়িয়েছে দেউলিয়া হওয়ার প্রান্তে। এবার তারা সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিল।

ইরান যুদ্ধের কারণে জেট ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আগে থেকে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম এই বিমান সংস্থাটি। জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়া তাদের আরও সংকটে ফেলে দিয়েছিল। এরপর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি ‘বেলআউট’ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। ফলে ব্যবসার ইতি টানা ছাড়া তাদের কোনো উপায় ছিল না।

গত ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় বিমান সংস্থা আর্থিক সংকটের কারণে ব্যবসা গুটিয়ে নিল। এক বিবৃতিতে স্পিরিট বলেছে, ‘৩৪ বছর ধরে আমাদের আল্ট্রা লো-কস্ট মডেল (অত্যন্ত সাশ্রয়ী সেবা) এই শিল্পে যে প্রভাব ফেলেছে, তার জন্য আমরা গর্বিত। আমরা আরও অনেক বছর যাত্রীসেবা দেওয়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ২০২৬ সালের ২ মে থেকে স্পিরিট এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’

এই সিদ্ধান্তের ফলে কাজ হারাবেন অন্তত ১৭ হাজার কর্মী। এর মধ্যে স্পিরিটের নিজস্ব কর্মী ১৪ হাজার। এ ছাড়াও রয়েছেন কয়েক হাজার ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা আগে স্পিরিটের কর্মীরা তাঁদের চাকরি হারানোর খবর পান। স্পিরিটের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ইউনিয়নের (অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস) নেতৃত্ব রাত ১টার দিকে তাদের ৫ হাজার সদস্যকে একটি বার্তা পাঠায়। সেখানে বলা হয়, ‘আমাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংবাদটি দিচ্ছি, পূর্বাঞ্চলীয় সময় আজ রাত ৩টা থেকে স্পিরিট স্থায়ীভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে।’

স্পিরিটের হঠাৎ বন্ধ ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ যাত্রী। স্পিরিট সব ফ্লাইট বাতিল করে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রও বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। টিকিট কেনা যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং তাঁদের অন্য এয়ারলাইনসে নতুন করে টিকিট বুক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্পিরিটের টিকিট কেনা যাত্রীদের এখন তড়িঘড়ি করে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। গ্রাহকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় স্পিরিট জানিয়েছে, অন্য এয়ারলাইনসে নতুন করে টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে তারা কোনো সহায়তা করতে পারবে না। তবে যাঁরা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি স্পিরিট থেকে টিকিট কিনেছেন, তাঁদের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে। আর যাঁরা ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট বুক করেছেন, তাঁদের রিফান্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ভাউচার, ক্রেডিট বা ‘ফ্রি স্পিরিট’ পয়েন্ট ব্যবহার করে যাঁরা টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বন্ধ করে দিলে তাদের রিওয়ার্ড বা ভাউচারগুলো আর কার্যকর থাকে না। স্পিরিট জানিয়েছে, এসব ক্ষেত্রে অর্থ ফেরতের বিষয়টি দেউলিয়া আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

স্পিরিট স্পষ্ট করে দিয়েছে, ফ্লাইট বাতিলের কারণে আনুষঙ্গিক কোনো খরচ তারা বহন করবে না। তবে ভ্রমণ বিমা (ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স) করা থাকলে যাত্রীরা বিমা কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

ভ্রমণের মাঝপথে থাকা যাত্রীদের এখন অন্য বিমানে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। তবে শেষ মুহূর্তের টিকিটের দাম সব সময় বেশি থাকে বলে মার্কিন বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। স্পিরিট যেসব রুটে বিরতিহীন ফ্লাইট পরিচালনা করত, সেসব রুটে টিকিটের দামের ওপর একটি ঊর্ধ্বসীমা (ফেয়ার ক্যাপ) নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

আসন সংখ্যার দিক থেকে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম এয়ারলাইনস ছিল স্পিরিট। হ্যান্ডব্যাগ বা ছোট ব্যাগের জন্য আলাদা ফি নিয়ে মূল টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য কম রাখার মাধ্যমে তারা মার্কিন আকাশে নতুন এক ধারা তৈরি করেছিল। এই মডেলের কারণে অন্য বড় কোম্পানিগুলোও টিকিটের দাম কমাতে বাধ্য হয়েছিল এবং ‘বেসিক ইকোনমি’র মতো সস্তা টিকিট চালু করেছিল।

এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স ফার্ম সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ২ মে থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত স্পিরিটের প্রায় ৯ হাজার ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল। এসব ফ্লাইটে মোট ১৮ লাখ আসন ছিল। অর্থাৎ শুধু আগামী এক মাসেই প্রতিদিন গড়ে ৩০০ ফ্লাইট এবং ৬০ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এ বছর গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ২ শতাংশ পরিচালনা করার কথা ছিল স্পিরিটের। তাদের এই প্রস্থান পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান খাতে টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাকে ঢাকায় রেখো না, ঢাকার বাইরে নিয়ে যাও’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হঠাৎ রমনা থানা পরিদর্শন, ১০ মিনিটে যা যা করলেন

ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: সব পদে বিএনপি-সমর্থক আইনজীবী প্যানেলের জয়

ইরানের সঙ্গে স্থল বাণিজ্য পথ খুলে দিল পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র কি মেনে নেবে

আজকের রাশিফল: বিকেলের সারপ্রাইজ কল মুড বদলে দেবে, অতি চালাকি বিপদ আনবে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত