Ajker Patrika

ঠাকুরগাঁওকে মাগুরা বানাবেন না, নির্বাচন হোক ঈদ উৎসবের মতো: আব্দুল হালিম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৫: ৫৫
ঠাকুরগাঁওকে মাগুরা বানাবেন না, নির্বাচন হোক ঈদ উৎসবের মতো: আব্দুল হালিম
আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে কথা বলেন মাওলানা আব্দুল হালিম। ছবি: আজকের পত্রিকা

‘এক ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য বাংলাদেশকে অগ্নিগর্ভ করবেন না। এক মাগুরার কারণে কেয়ারটেকার সরকার মানতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন সরকার। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে কে জিতলে বা হারল—তাতে সরকারের পতন হবে না, বিরোধী দলেরও মহাবিপদ হবে না। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের এই আসনকে কোনোভাবেই মাগুরা দেখতে চাই না।’

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে মাঠ পরিদর্শনের পর এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় (বড় মাঠ) মাঠের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় উপনির্বাচনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের মাঠে জামায়াত কর্মীদের অব্যাহত হুমকি ও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়ায় তাঁদের প্রার্থীকে গণসংযোগ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে, ওই ওয়ার্ডেই বিএনপির দুই নেতা ফরহাদ ও দুলাল জামায়াতের নারী-পুরুষ কর্মীদের অব্যাহত হুমকি দিচ্ছেন। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, বিএনপির লোকেরা একজন নারী কর্মীকে তাঁর বাসা ছাড়তে বাধ্য করেছেন। উনারা মুখে নারী অধিকারের কথা বলেন, কিন্তু জামায়াতের নারীরা যখন দলবদ্ধভাবে ভোটের কাজ করেন, তখন আর নারী অধিকার থাকে না—উনারা ‘জামাতি’ হয়ে যান। এটা সত্য যে, জামায়াতের নারীদের মধ্যেও এখন ভোট ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রুহিয়া উপজেলার আখানগরে নির্বাচনী সমাবেশ শেষে বিএনপির কর্মীরা জামায়াতের কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং কর্মীদের আঘাত করেন। এমনকি তাঁদের থানা আমিরকেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রহিমাপুরের কৃষ্ণপুরে সমাবেশ চলাকালে ভয়ভীতি দেখানোর ফলে সাধারণ নেতা-কর্মীরা অংশ নিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা মাগুরা মার্কা নির্বাচন চাই না, ঈদের মতো উৎসব চাই।’

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব। এ পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা প্রশংসনীয় এবং আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলোও গুরুত্বসহকারে নোটে নিতে হবে।’

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, এখানে সরকারি দল জিতল না বিরোধী দল জিতল—সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমরা দেখতে চাই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক ধারা শুরু হয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসন যেন তার এক নতুন ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। পাঁচজন প্রার্থীর সবার কাছে আমাদের আহ্বান—আসুন, সকলে মিলে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি ‘ঈদের উৎসব’ উদ্‌যাপন করি। জনগণের রায় যার পক্ষেই যাক, আমরা মেনে নেব।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘উপনির্বাচন মনে করে ১২ই ফেব্রুয়ারি বা আগের আনন্দের কথা ভুলে যাবেন না। ভয়ডর ভুলে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসুন, যাকে খুশি তাকে ভোট দিন। আমরা সবাই মিলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি উজ্জ্বল ও সুন্দর দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত