Ajker Patrika

টাঙ্গাইলের বাসাইল: ১০ কোটির সেতুতে রডের বদলে বাঁশ

আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল 
টাঙ্গাইলের বাসাইল: ১০ কোটির সেতুতে রডের বদলে বাঁশ
বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে রডের বদলে দেওয়া বাঁশ। গতকাল তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে গত রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। তাঁদের প্রতিবাদের মুখে তাৎক্ষণিক বন্ধ করলেও রাতে আবার ঢালাই করা হয়। এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে সেতুটির কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এ পর্যন্ত সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে ঠিকাদারের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেন। একপর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। তাঁরা চলে যাওয়ার পর ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিলেন। সর্বশেষ রোববার রাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছিল। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে কাজটি বন্ধ করে দেয়। সে সময় সাময়িক সময়ের জন্য কাজ বন্ধ করলেও রাতে আবার ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়।

ঠিকাদার এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রেলিংয়ের পাশে ফুটপাত স্ল্যাবে ৪ ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। স্ল্যাবের নিচে একটা শাটারিং করতে হয়। ওই শাটারিং আর সেখান থেকে সরানো যাবে না। শার্টারিংটি এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। এটি করতে হয় বাঁশ অথবা কাঠ দিয়ে। রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে এটার ওপর ঢালাই করা হয়। আমরা যখন বাঁশ দিয়ে শাটারিং করেছি, এতে এলাকার কিছু লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ায় ভাইরাল করেছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমাদের অবগত না করেই রাতে ঢালাইয়ের কাজ করেছে। তারা ফুটপাতে স্ল্যাবের ঢালাই করেছে। এটার নিয়ম হচ্ছে, একটি জায়গায় সুন্দরভাবে ঢালাই করে তারপর ফুটপাতের জায়গায় স্ল্যাব বসিয়ে দিতে হয়। ওনারা তা না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং করে তারপর সামান্য কিছু রড দিয়ে ঢালাই করেছে। এটা নিয়মের মধ্যে হয়নি।’

উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত