Ajker Patrika

সিলেটে প্রধান শিক্ষক বুরহান উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা, ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটে প্রধান শিক্ষক বুরহান উদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা, ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয় শিক্ষক মো. বুরহান উদ্দিনকে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দলইরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বুরহান উদ্দিনের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে তিনি এই অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রেখেছেন।

বক্তারা বলেন, মো. বুরহান উদ্দিন কেবল একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁর হাত ধরে গড়ে ওঠা অনেক শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তাঁরা আরও বলেন, তাঁর অবদান বিদ্যালয় ও এলাকাবাসী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কুমিল্লার শহীদনগর এমএ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীন।

জয়নাল আবেদিন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট আলা উদ্দিন এবং ফাহিমুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টিটু কুমার দে এবং সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র চন্দ্র দাস।

বিদায়লগ্নে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মো. বুরহান উদ্দিন তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকতা শুধু আমার পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার ব্রত। শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর সহকর্মীদের সহযোগিতাই ছিল আমার দীর্ঘ ৩৩ বছরের পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি অবসরে গেলেও আমার মন সবসময় এই বিদ্যালয়ের বারান্দায়, ক্লাসরুমেই পড়ে থাকবে। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি আমার শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ করে তুলতে।”

মো. বুরহান উদ্দিন ১৯৯৩ সালে শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে তেলিখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে গৌরীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে দলইরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দিয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন শেষে ১৪ মে অবসর গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়। পরে ফুলেল শুভেচ্ছায় তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত