বিশ্বজিত রায়, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বোরো ধান রক্ষার প্রধান ভরসা হাওর রক্ষা বাঁধ। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জেলার বেশির ভাগ হাওরে এই বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি। কোথাও কাজের কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই, কোথাও আবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিও (পিআইসি) গঠন শেষ হয়নি। এতে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরপারের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন, এখনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। সময়মতো কাজ করলে মাটি ভালোভাবে বসে, বাঁধ শক্ত হয়। শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে বাঁধ দুর্বল থাকে। একটু পানির চাপেই ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। তখন সারা বছরের পরিশ্রম পানিতে চলে যায়। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের দুই পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া ও নূর মিয়া জানান, বাঁধের কাজের সীমানা এখনো নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। কোন পিআইসি নম্বরে কোন অংশের কাজ, সেটিও তাঁরা জানেন না। এই অবস্থায় কবে কাজ শুরু হবে, তা বলা কঠিন।
গত শনিবার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, বাঁধের ভাঙা অংশ বদ্ধকরণ ও মেরামতের জন্য অধিকাংশ এলাকা কাজের উপযোগী। কোথাও কোথাও হাওর দিয়ে পানি নামলেও প্রাক্কলিত বাঁধের বেশির ভাগ অংশে কাজ শুরু করতে বড় ধরনের কোনো বাধা চোখে পড়েনি। কিন্তু বাস্তবে সোনামড়ল, হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের প্রায় অর্ধশত প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক উপজেলায় এখনো পিআইসি গঠনই সম্পন্ন হয়নি। ফলে কাজ শুরুর সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে বাঁধ দুর্বল হবে এবং আগাম বন্যায় তা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৫৩টি হাওরে ৭০২টি পিআইসি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। মোট ৫৮৫ কিলোমিটার প্রাক্কলিত বাঁধের মধ্যে ১০৪টি স্থানে ক্লোজার বা ভাঙা অংশ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দে ঘাটতি নেই। কিন্তু সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় সেই বরাদ্দ কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
হাওরাঞ্চল এক ফসলি এলাকা। বছরে একবারই বোরো ধান হয়। এই একটি ফসলই এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার ভরসা। বোরো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষকের ঘরে খাদ্যসংকট দেখা দেয়, ঋণের বোঝা বাড়ে। এ কারণেই প্রতিবছর হাওর রক্ষা বাঁধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, ‘১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ উদ্বোধনের পরও বাস্তবে কোনো বাঁধে কাজ শুরু হয়নি। শাল্লার ছয়টি হাওরে শতাধিক প্রকল্প রয়েছে। এখনো পিআইসি গঠন নিয়ে তদবির চলছে। এই অবস্থায় যথাসময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
জামালগঞ্জে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি রফিকুল বিন বারী বলেন, গত শনিবার হালির হাওর ঘুরে যা দেখলাম, তাতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। কাজ কখন শুরু হবে, কখন শেষ হবে, বলা মুশকিল। এ রকম হলে দিনশেষে কৃষকেরা বিপদে পড়বেন। তখন দৌড়ঝাঁপ করে লাভ হবে না। সময় থাকতে কাজে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
কাবিটা প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, এখানে অনেকগুলো বাঁধেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক মেশিন হাওরে ঢুকেছে। দু-এক দিনের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শুরু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চার-পাঁচটি পিআইসি আছে, যেগুলো এখনো গঠিত হয়নি। এগুলো সরেজমিন দেখে দিতে হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের অনেক জায়গা দিয়ে এখনো পানি নদীতে নামছে। পানি নামার কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বোরো ধান রক্ষার প্রধান ভরসা হাওর রক্ষা বাঁধ। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জেলার বেশির ভাগ হাওরে এই বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি। কোথাও কাজের কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই, কোথাও আবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিও (পিআইসি) গঠন শেষ হয়নি। এতে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরপারের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন, এখনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। সময়মতো কাজ করলে মাটি ভালোভাবে বসে, বাঁধ শক্ত হয়। শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে বাঁধ দুর্বল থাকে। একটু পানির চাপেই ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। তখন সারা বছরের পরিশ্রম পানিতে চলে যায়। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের দুই পিআইসি সভাপতি সোহেল মিয়া ও নূর মিয়া জানান, বাঁধের কাজের সীমানা এখনো নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। কোন পিআইসি নম্বরে কোন অংশের কাজ, সেটিও তাঁরা জানেন না। এই অবস্থায় কবে কাজ শুরু হবে, তা বলা কঠিন।
গত শনিবার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, বাঁধের ভাঙা অংশ বদ্ধকরণ ও মেরামতের জন্য অধিকাংশ এলাকা কাজের উপযোগী। কোথাও কোথাও হাওর দিয়ে পানি নামলেও প্রাক্কলিত বাঁধের বেশির ভাগ অংশে কাজ শুরু করতে বড় ধরনের কোনো বাধা চোখে পড়েনি। কিন্তু বাস্তবে সোনামড়ল, হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের প্রায় অর্ধশত প্রকল্প এলাকায় কাজ শুরুর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক উপজেলায় এখনো পিআইসি গঠনই সম্পন্ন হয়নি। ফলে কাজ শুরুর সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কাজ করলে বাঁধ দুর্বল হবে এবং আগাম বন্যায় তা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৫৩টি হাওরে ৭০২টি পিআইসি গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৪৫ কোটি টাকা। মোট ৫৮৫ কিলোমিটার প্রাক্কলিত বাঁধের মধ্যে ১০৪টি স্থানে ক্লোজার বা ভাঙা অংশ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দে ঘাটতি নেই। কিন্তু সময়মতো কাজ শুরু না হওয়ায় সেই বরাদ্দ কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
হাওরাঞ্চল এক ফসলি এলাকা। বছরে একবারই বোরো ধান হয়। এই একটি ফসলই এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার ভরসা। বোরো ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষকের ঘরে খাদ্যসংকট দেখা দেয়, ঋণের বোঝা বাড়ে। এ কারণেই প্রতিবছর হাওর রক্ষা বাঁধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন বলেন, ‘১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ উদ্বোধনের পরও বাস্তবে কোনো বাঁধে কাজ শুরু হয়নি। শাল্লার ছয়টি হাওরে শতাধিক প্রকল্প রয়েছে। এখনো পিআইসি গঠন নিয়ে তদবির চলছে। এই অবস্থায় যথাসময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
জামালগঞ্জে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি রফিকুল বিন বারী বলেন, গত শনিবার হালির হাওর ঘুরে যা দেখলাম, তাতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। কাজ কখন শুরু হবে, কখন শেষ হবে, বলা মুশকিল। এ রকম হলে দিনশেষে কৃষকেরা বিপদে পড়বেন। তখন দৌড়ঝাঁপ করে লাভ হবে না। সময় থাকতে কাজে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
কাবিটা প্রকল্প মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, এখানে অনেকগুলো বাঁধেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক মেশিন হাওরে ঢুকেছে। দু-এক দিনের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শুরু হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চার-পাঁচটি পিআইসি আছে, যেগুলো এখনো গঠিত হয়নি। এগুলো সরেজমিন দেখে দিতে হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের অনেক জায়গা দিয়ে এখনো পানি নদীতে নামছে। পানি নামার কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

ভেজাল গুড় বিক্রি ও খাদ্যে ভেজাল থাকার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ শহরের এসএস রোড ও বাজার স্টেশন এলাকায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় সাত শতাধিক কেজি গুড় জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
৬ মিনিট আগে
বগুড়ার আদমদীঘিতে শাহানুর খান মিলন নামের এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়ির তালা ভেঙে সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুরে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী তাসলিমা বেগম আদমদীঘি থানায় এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন।
৮ মিনিট আগে
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তল, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এর মধ্যে রয়েছে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১টি গুলি, ৩ বোতল ফেনসিডিল ও ৭টি ইয়াবা।
২৪ মিনিট আগে
ফাঁদে আটকা পড়ার কারণে বাঘটির বাম পায়ের শিরা ও নার্ভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রক্ত চলাচল বন্ধ ছিল। বয়স্ক হওয়ায় বাঘটি তার স্বাভাবিক শক্তি হারিয়েছে। বাঘটিকে স্বাভাবিক ও সুস্থ করতে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বন্য প্রাণী চিকিৎসকেরা।
৩২ মিনিট আগে