Ajker Patrika

শেরপুরে পাগলা কুকুরের আক্রমণ, নারী-শিশুসহ আহত অর্ধশতাধিক

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে পাগলা কুকুরের আক্রমণ, নারী-শিশুসহ আহত অর্ধশতাধিক
আজ মঙ্গলবার সকালে কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভিড় করেছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী ও লছমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দড়িপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে একটি পাগলা কুকুর বিভিন্ন গ্রামে অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় সামনে যাঁকে পেয়েছে, তাঁকেই কামড় ও আঁচড় দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে আহত ৪৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

হাসপাতালে ভর্তি তিনজন হলেন—সদর উপজেলার সাপমারী এলাকার বাহেজ উদ্দিন (৭০), কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার মামুন (৩২) ও শেরীপাড়া এলাকার আবুল হোসেন (৫০)।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহত ব্যক্তিদের ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবলসংকটের কারণে একজন নার্সকে টিকা দিতে হচ্ছে। এতে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ নিয়ে টিকাকেন্দ্রে রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডাও হয়।

চিকিৎসা নিতে আসা চার বছর বয়সী এক শিশুর স্বজন মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমার শিশুকে ভোর ৬টার দিকে কুকুরে কামড় দেয়। সকাল ৭টায় হাসপাতালে এলেও বেলা ১১টা পর্যন্ত টিকা পাইনি। এ ছাড়া আনসার সদস্যরা বারবার বাইরে বের করে দিচ্ছেন।’

একই ধরনের অভিযোগ করেন আরেক রোগীর স্বজন মো. রোকন। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন থেকে এসে কুকুরটি তার পিঠে আঁচড় দেয়। হাসপাতালে টিকা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, ‘দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে আটক বা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে গ্রামে মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু ও কৃষকেরা বেশি বিপদে পড়বেন।’

তবে হাসপাতালে আসা ৪৮ জনকেই জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. এ কে এম মাহমুদুল হাসান সোহাগ। তিনি বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সবাইকে সরকারের সরবরাহ করা টিকা বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে। জনবলসংকটের কারণে টিকা নিতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছিল। তবে সবাইকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত