টাকা নিয়ে বিরোধে ঢাকায় খুন ঝিনুক, ড্রামে ভরে মরদেহ ফেলা হয় শেরপুরে: পিবিআই

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ব্রিজের নিচে প্লাস্টিকের ড্রামে পাওয়া নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের দাবি, টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ঢাকায় ঝিনুক আক্তার (২৬) নামের ওই নারীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা আড়াল করতে তাঁর মরদেহ ড্রামে ভরে শ্রীবরদীতে ফেলে রাখা হয়।
আজ রোববার দুপুরে শেরপুর শহরের গৃদানারায়ণপুর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের মাহবুবা আক্তার ফাতেমা (৪৪), পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রামের নুর ইসলাম বাবু (৪৪), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাঘমারা শিশুয়া গ্রামের সজল (৪৪) এবং শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা গ্রামের নুর মোহাম্মদ গোসা (৪৪)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনীয়া এলাকার কুড়েমনি খালের একটি ব্রিজের নিচে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে ঝিনুক আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার শাকিল মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় ঝিনুকের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে তাঁর স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তের পাশাপাশি পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমানকে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ২১ অক্টোবর ঝিনুককে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার আব্দুস সাত্তারের ভাড়া বাসার একটি কক্ষে নিয়ে যান ফাতেমাসহ চারজন। সেখানে আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফাতেমা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঝিনুককে আঘাত করেন। পরে অন্য আসামিরা তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পিবিআইয়ের দাবি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা হয়। পরে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়িতে করে ঢাকার দক্ষিণখান থেকে শ্রীবরদীর কুড়িকাহনীয়া ব্রিজের নিচে ফেলে রাখা হয়।
পিবিআই জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নুর ইসলাম বাবু শেরপুরের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, ঘটনাটি ছিল ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড। আর্থিক লেনদেন ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার পর থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে এর রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন।









