Ajker Patrika

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, দক্ষিণ আফ্রিকায় শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৩৫
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি, দক্ষিণ আফ্রিকায় শরীয়তপুরের ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা
মারুফ ব্যাপারী। ছবি: সংগৃহীত

১০ বছরের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুস্টার এলাকার কাছাকাছি জুলুটেম্বা এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন শরীয়তপুরের মারুফ ব্যাপারী (৫০)। গতকাল বুধবার রাতে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছেন।

নিহত মারুফ ব্যাপারী শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের পশ্চিম সিড্যা গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহান ব্যাপারীর ছেলে। তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। চার বছর আগে তাঁর স্ত্রী মারা যান।

পরিবার ও পরিচিত প্রবাসীরা জানায়, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে জুলুটেম্বা এলাকায় ব্যবসা করছিলেন। ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নিরাপত্তার নামে তাঁর কাছে ৫০০ থেকে দেড় হাজার দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিচিতজনদের দাবি, গতকাল রাতে অতিরিক্ত চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে মারুফের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি নিহত হন।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিচিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মারুফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পশ্চিম সিড্যা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মারুফের ভাতিজা কামরুজ্জামান ব্যাপারী বলেন, ‘চাঁদার জন্য বিদেশের মাটিতে আমার কাকা মারুফ ব্যাপারীকে জীবন দিতে হয়েছে। ওখানকার দূতাবাস কি এগুলো দেখে না? আমরা চাই, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আমার কাকার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক।’

কামরুজ্জামান ব্যাপারী আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদার টাকার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের হত্যার খবর প্রায়ই শোনা যায়। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখা উচিত। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মারুফের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য সময় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে তাঁরা এখনো বিস্তারিত জানতে পারেননি।

স্বজনেরা বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত