Ajker Patrika

মুক্তিপণ দিয়েও ছাড়া পাননি সুন্দরবনে অপহৃত চার জেলে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
মুক্তিপণ দিয়েও ছাড়া পাননি সুন্দরবনে অপহৃত চার জেলে
মুক্তিপণ দেওয়ার পরও নিখোঁজ ৪ জেলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সুন্দরবনে অপহৃত চার জেলে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের পরও মুক্তি পাননি। গত ৩১ মে পশ্চিম সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে ও সুবদে খাল এলাকা থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় বনদস্যু ডন বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় অপহৃতদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

অপহৃত চার জেলে হলেন শ্যামনগরের ইয়াছিন খাঁ, শাহাজান খাঁ, শাহাজান আলী ও শরিফুল ইসলাম। তাদের মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে দস্যুরা। পরে দেনদরবারের মাধ্যমে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।

অপহৃত শাহাজানের চাচাত ভাই শ্যামনগরের কুলতলী এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, তুলনামূলক কম মুক্তিপণ আদায় করে জিম্মি অন্য ৬ জেলেকে ছেড়ে দিয়েছে দস্যুরা। তবে আটক অবস্থায় দস্যুদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁর ভাই শাহাজানসহ চারজনকে এক সপ্তাহ ধরে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইয়াছিনের জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অন্য তিনজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে বিকাশে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরও তাদের ছাড়া হয়নি।

এদিকে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে ধার-দেনা করায় পরিবারগুলো আরও অসহায় হয়ে পড়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, জুনের শুরু থেকে সুন্দরবনে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। অপহৃত জেলেরা ফিরে আসার সময় দস্যুদের কবলে পড়েন। বর্তমানে জলদস্যুদের আটক করতে কাজ করছে কোস্টগার্ড। বনবিভাগ কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানিয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সুন্দরবনে কোনো জেলে অপহৃত হলে সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের মুক্ত করা হয়। এ কারণে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। এরপরও পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, সুন্দরবন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন ৩১ মে রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল এলাকা থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ৬ জেলেকে অপহরণ করা হয়। তাদের মধ্যে ২ জন ইতিমধ্যে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে এলাকায় ফিরে এসেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত