Ajker Patrika

ভূরুঙ্গামারী ও শেরপুরে অবৈধভাবে মজুত ২৬৪ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
ভূরুঙ্গামারী ও শেরপুরে অবৈধভাবে মজুত ২৬৪ বস্তা সার জব্দ, জরিমানা
বগুড়ার শেরপুরে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে সার মজুতের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে দুই উপজেলায় মোট ২৬৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ভূরুঙ্গামারীতে দুই ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা এবং শেরপুরে এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩১ বস্তা ইউরিয়া ও ১১ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর এলাকায় অবৈধভাবে সার মজুতের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বেলাল মিয়ার বাড়ি থেকে ২৭ বস্তা ইউরিয়া ও ৮ বস্তা ডিএপি এবং মানিক মিয়ার বাড়ি থেকে চার বস্তা ইউরিয়া ও তিন বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা আইনে বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক।

কৃষকদের অভিযোগ, কিছু অসাধু সার ব্যবসায়ী ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির কারণে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। অবৈধভাবে সার মজুতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ প্রবণতা কমবে এবং কৃষকেরা সহজে সার পাবেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক তারেক বলেন, ‘বেলাল মিয়া ও মানিক মিয়া লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে সার মজুত করায় সার ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী উভয়কে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।’

ইসলামপুর এলাকায় বেলাল মিয়ার বাড়ি থেকে ২৭ বস্তা ইউরিয়া ও ৮ বস্তা ডিএপি এবং মানিক মিয়ার বাড়ি থেকে ৪ বস্তা ইউরিয়া ও ৩ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
ইসলামপুর এলাকায় বেলাল মিয়ার বাড়ি থেকে ২৭ বস্তা ইউরিয়া ও ৮ বস্তা ডিএপি এবং মানিক মিয়ার বাড়ি থেকে ৪ বস্তা ইউরিয়া ও ৩ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

অন্যদিকে, বগুড়ার শেরপুরে অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁর মজুত থেকে ৭৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। একই অভিযানে রানিরহাট বাজার থেকে মালিকবিহীন আরও ৫৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন ও রানিরহাট বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন শেরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও শেরপুর থানা-পুলিশ অভিযানে সহযোগিতা করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিলাশপুর ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলামকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় তাঁর মজুত থেকে ৭৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়।

জব্দ করা সার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষকদের কাছে নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ থেকে পাওয়া আনুমানিক ৯১ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে রানিরহাট বাজারে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় আরও ৫৪ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এসব সার কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ আনুমানিক ৬৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে সার মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত