আনিসুল হক জুয়েল, দিনাজপুর

দূর থেকে বোঝা যাবে না। একটু কাছে এলে মন্দিরের গায়ের পোড়ামাটির ফলকগুলোর দিকে চোখ গেলে ওলটপালট হয়ে যাবে ভাবনা। আরে! এ দেখি বাংলার সমাজচিত্রই ধরা আছে দেয়ালের বুকে!
দিনাজপুর জেলা সদর থেকে সোজা দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ২০ কিলোমিটার যাওয়ার পরই উত্তরে কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে মহাসড়কের পশ্চিম দিকটায় দেখা যাবে ঢেপা নদী। সেই নদীর তীরে কান্তনগর এলাকায় দেখবেন কান্তজীউ মন্দির। কে না জানে, বাংলাদেশের পোড়ামাটি স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এই মন্দির।
মন্দিরটির বয়স হয়েছে। ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে মহারাজা প্রাণনাথ রায় মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজ শেষ করার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। মহারাজার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে রাজা রামনাথ ১৭৫২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ করেন।
মন্দিরটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে নিবেদিত। কালিয়াকান্ত জীউ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এই মন্দিরের গর্ভে। তাই এই মন্দিরের নাম কান্তজীউ, কান্তজী বা কান্তজীর মন্দির। মন্দিরটির কারণেই এই এলাকা কান্তনগর নামে পরিচিতি পায়। তাই পরবর্তীকালে মন্দিরটির আরেক নাম কান্তনগর মন্দির হয়ে ওঠে। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত।
কারণ, তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের ৯টি চূড়া বা রত্ন ছিল।
ইটের তৈরি এই মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ফলকে মধ্যযুগের শেষ দিকে বাংলার সামাজিক জীবনের নানা কাহিনি বিবৃত রয়েছে, উৎকীর্ণ হয়েছে রামায়ণ, মহাভারত ও বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনির খণ্ডচিত্র। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চারটি শাস্ত্রীয় যুগের পৌরাণিক কাহিনিগুলো মন্দিরের চার দেয়ালে চিত্রায়িত। এই মন্দিরের টেরাকোটা কখনো আপনাকে নিয়ে যাবে মধ্যযুগীয় বাংলায়, আবার কখনো উপস্থাপন করবে পৌরাণিক কাহিনি।
দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি মন্দিরটি। স্থানীয় সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদে উন্নয়নকাজ হয়েছে। ঢেপা নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে মন্দিরে যেতে হতো। এখন মন্দিরে যাওয়ার জন্য নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজের প্রবেশমুখে তৈরি করা হয়েছে তেভাগা আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ সিধু-কানু চত্বর।
মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে রাস্তাঘাট, পার্ক, মিউজিয়াম। সংস্কার চলছে রাসবেদির। পর্যটকদের সুবিধার্থে কান্তজীউ মন্দির থেকে নয়াবাদ মসজিদ পর্যন্ত সরাসরি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করার প্রস্তাবনাও বিবেচনাধীন।
কান্তজীউ মন্দির ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন এলাকা। নির্মিত হয়েছে জাদুঘর, হোটেল-মোটেল, শপিং মলসহ নানা স্থাপনা। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে ঐতিহাসিক এই মন্দির দেখতে সারা বছর ভিড় করেন পুণ্যার্থী ও পর্যটকেরা।
প্রায় ১ মিটার উঁচু এবং ১৮ মিটার বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার বেদির ওপর এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরের প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার। মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও পাথরের ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো ৫০ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি একটি বর্গাকার ইমারত, যা বর্গাকার প্রধান প্রকোষ্ঠটি কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির করোনার কারণে লকডাউনে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল। তবে লকডাউনের পর তা খুলে দেওয়া হয়েছে।

দূর থেকে বোঝা যাবে না। একটু কাছে এলে মন্দিরের গায়ের পোড়ামাটির ফলকগুলোর দিকে চোখ গেলে ওলটপালট হয়ে যাবে ভাবনা। আরে! এ দেখি বাংলার সমাজচিত্রই ধরা আছে দেয়ালের বুকে!
দিনাজপুর জেলা সদর থেকে সোজা দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ২০ কিলোমিটার যাওয়ার পরই উত্তরে কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে মহাসড়কের পশ্চিম দিকটায় দেখা যাবে ঢেপা নদী। সেই নদীর তীরে কান্তনগর এলাকায় দেখবেন কান্তজীউ মন্দির। কে না জানে, বাংলাদেশের পোড়ামাটি স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এই মন্দির।
মন্দিরটির বয়স হয়েছে। ১৭২২ খ্রিষ্টাব্দে মহারাজা প্রাণনাথ রায় মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। কিন্তু কাজ শেষ করার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। মহারাজার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে রাজা রামনাথ ১৭৫২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ করেন।
মন্দিরটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে নিবেদিত। কালিয়াকান্ত জীউ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এই মন্দিরের গর্ভে। তাই এই মন্দিরের নাম কান্তজীউ, কান্তজী বা কান্তজীর মন্দির। মন্দিরটির কারণেই এই এলাকা কান্তনগর নামে পরিচিতি পায়। তাই পরবর্তীকালে মন্দিরটির আরেক নাম কান্তনগর মন্দির হয়ে ওঠে। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত।
কারণ, তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের ৯টি চূড়া বা রত্ন ছিল।
ইটের তৈরি এই মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির ফলকে মধ্যযুগের শেষ দিকে বাংলার সামাজিক জীবনের নানা কাহিনি বিবৃত রয়েছে, উৎকীর্ণ হয়েছে রামায়ণ, মহাভারত ও বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনির খণ্ডচিত্র। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি—এই চারটি শাস্ত্রীয় যুগের পৌরাণিক কাহিনিগুলো মন্দিরের চার দেয়ালে চিত্রায়িত। এই মন্দিরের টেরাকোটা কখনো আপনাকে নিয়ে যাবে মধ্যযুগীয় বাংলায়, আবার কখনো উপস্থাপন করবে পৌরাণিক কাহিনি।
দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি মন্দিরটি। স্থানীয় সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপালের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কান্তজীউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদে উন্নয়নকাজ হয়েছে। ঢেপা নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে মন্দিরে যেতে হতো। এখন মন্দিরে যাওয়ার জন্য নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজের প্রবেশমুখে তৈরি করা হয়েছে তেভাগা আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ সিধু-কানু চত্বর।
মন্দির সংস্কারের পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে রাস্তাঘাট, পার্ক, মিউজিয়াম। সংস্কার চলছে রাসবেদির। পর্যটকদের সুবিধার্থে কান্তজীউ মন্দির থেকে নয়াবাদ মসজিদ পর্যন্ত সরাসরি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করার প্রস্তাবনাও বিবেচনাধীন।
কান্তজীউ মন্দির ঘিরে গড়ে উঠেছে পর্যটন এলাকা। নির্মিত হয়েছে জাদুঘর, হোটেল-মোটেল, শপিং মলসহ নানা স্থাপনা। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে ঐতিহাসিক এই মন্দির দেখতে সারা বছর ভিড় করেন পুণ্যার্থী ও পর্যটকেরা।
প্রায় ১ মিটার উঁচু এবং ১৮ মিটার বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার বেদির ওপর এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরের প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ১৬ মিটার। মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও পাথরের ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো ৫০ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি একটি বর্গাকার ইমারত, যা বর্গাকার প্রধান প্রকোষ্ঠটি কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দির করোনার কারণে লকডাউনে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ছিল। তবে লকডাউনের পর তা খুলে দেওয়া হয়েছে।

কুড়িল বিশ্বরোড বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পেছন রেললাইনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষের জটলা দেখতে পান তিনি। এগিয়ে গিয়ে দেখেন রেললাইনের পাশেই ওই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
৪ মিনিট আগে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। সাহস মানে কেবল বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, বরং অন্যায় আদেশকে ‘না’ বলা এবং মজলুমের পক্ষে দাঁড়িয়ে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই প্রকৃত সাহসিকতা।
৬ মিনিট আগে
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আত্রাই নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আত্রাই নদীর লক্ষিতলা ব্রিজের পাশ থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
১০ মিনিট আগে
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ (২৮) নামে এক যুবকের বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল-সংলগ্ন নাফ নদীর তীরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
১১ মিনিট আগে