Ajker Patrika

শরীর টিপে নেওয়ার জন্য ডেকে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২৪
শরীর টিপে নেওয়ার জন্য ডেকে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি

রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার পরিদর্শক শিহাব উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক শরীর টিপে নেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে তাঁর কক্ষে ডেকে নেন। ম্যাসাজের একপর্যায়ে তাঁকে ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক। বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতিও দেখানো হয় শিক্ষার্থীকে।

এরপর গতকাল সোমবার রাতে ওই শিক্ষার্থীকে তাঁর কক্ষে ডেকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই শিক্ষার্থী কৌশলে কক্ষ থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। পরে রাতেই স্বজনেরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আজ সকালে সালিস করার কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসার পরিচালকের ছেলের জিম্মায় রেখে ক্লাসে যান অন্য শিক্ষকেরা। পরে সালিসের আগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গোপনে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলে, মাদ্রাসার ওই হুজুর প্রায়ই রাতে ডেকে নিয়ে শরীর টিপে নেওয়ার নামে খারাপ কাজ করতেন। রাজি না হলে রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছিল, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত