Ajker Patrika

এক বছরে শ্যামাসুন্দর খালের কাজ ১৮ শতাংশ, জুনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষের তাগিদ

রংপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ৪৬
এক বছরে শ্যামাসুন্দর খালের কাজ ১৮ শতাংশ, জুনের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষের তাগিদ
শ্যামাসুন্দর খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুর নগরের শ্যামাসুন্দর খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ এক বছরে এগিয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ। অবশিষ্ট ৮২ শতাংশ কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘এক বছরে প্রায় ১৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখনো ৮২ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। আমি এ প্রকল্পের তদারকি করতে এসেছি। খালটির কাজ যেন আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারি, সে চেষ্টা করছি।’

আজ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নগরের ডিসির মোড় এলাকায় শ্যামাসুন্দর খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, শ্যামাসুন্দর খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পে প্রায় ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি রংপুর সিটি করপোরেশনও যুক্ত রয়েছে। আগামী বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। এর মধ্যে কাজ শেষ করে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চান তাঁরা।

খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি, দল, মত বা ধর্ম বিবেচনা করা হবে না। তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যত শক্তিশালী হোক না কেন, যে মতের বা দলেরই হোক না কেন, সেগুলো উচ্ছেদ করে দেব। এক ব্যক্তির জন্য, দুই ব্যক্তির জন্য, পাঁচ ব্যক্তির জন্য এই প্রকল্প ব্যাহত হোক, এটা আমরা বরদাশত করব না।’

খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাতে অনেকে প্লাস্টিকে বেঁধে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এসব কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরার সহায়তা নেওয়া হবে। কোন বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তা শনাক্ত করে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে জরিমানা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খাল পুনরুদ্ধারের পর সেখানে ওয়াকওয়ে নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, শ্যামাসুন্দর খাল আবার প্রাণ ফিরে পাবে। এ জন্য খালের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনাও তাঁরা বিবেচনা করছেন।

প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করাই এখন অগ্রাধিকার বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, প্রকৌশলীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ কাজ শেষ করে বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। এ ক্ষেত্রে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এমনভাবে এগিয়ে নিতে চান, যাতে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত