Ajker Patrika

গুচ্ছ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতেও চমক সৈয়দপুরের বিজ্ঞান কলেজ 

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ২১: ১৯
গুচ্ছ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতেও চমক সৈয়দপুরের বিজ্ঞান কলেজ 

মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্যের পর এবার প্রকৌশল গুচ্ছেও চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫ শিক্ষার্থী এবার প্রকৌশল গুচ্ছে (চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ১১ আগস্ট প্রকৌশল গুচ্ছে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ বা লেভেল-১ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং, বিইউআরপি ও বিআর্ক কোর্সের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানের ৩৫ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়ে।

সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম আহমেদ ফারুক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সৈয়দপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। বরাবরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করেন এই কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় এই কলেজের শিক্ষার্থীরা মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। এ বছর চুয়েট, কুয়েট ও রুয়েটে প্রথম ব্যাচের ৩৫ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া এই ব্যাচ থেকে এ বছর ৩৯ জন মেডিকেলে, ১৬ জন বুয়েটে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আমরা গর্বিত।’

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘আমরা এখানে শিক্ষার্থীদের গ্রিন-ক্লিন লার্নিং পদ্ধতিতে পড়ানোর চেষ্টা করি। এতে সবার মধ্যে প্রতিযোগিতা ও মননশীলতা বৃদ্ধি পায়। এ কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অত্যন্ত স্বচ্ছ। মেধাবী শিক্ষার্থীরাই কলেজে পড়ার সুযোগ পান। কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরা একধরনের সেতুবন্ধন তৈরি করি। ক্লাসরুমেই সম্পূর্ণ পাঠদান সম্পন্ন করা হয়। শিক্ষার্থীদের যাবতীয় প্রয়োজনীয়তা মাথায় রাখা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি কোনো চাপ দেওয়া হয় না।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) মোট ২৬৮ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন ২৬৫ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪৯ জন।

গুচ্ছতে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা তাবাসসুম আরা বলেন, ‘করোনাকালে আমরা মুখোমুখি ক্লাস করতে পারিনি। তবে আমাদের অনলাইন ক্লাস চালু ছিল। শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকি ছিল।’

ইলিয়াস হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ে এবার কুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পড়ালেখা করছে। তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর পর থেকেই দুশ্চিন্তামুক্ত হই। কেননা, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অত্যন্ত আন্তরিক। তাঁদের শেখানো পদ্ধতিটা আধুনিক।’

 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আগের নাম ছিল সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় (টেকনিক্যাল কলেজ)। ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ নাম রাখে। কলেজটিতে কেবল বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। ১৯৬৪ সালে দেশের চারটি শিল্পাঞ্চলে টেকনিক্যাল স্কুল গড়ে ওঠে। দেশের সর্ববৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সুবাদে এখানেও গড়ে ওঠে টেকনিক্যাল স্কুল। উদ্দেশ্য ছিল এখান থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জন্য দক্ষ, কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থী গড়ে তোলা। পরে ১৯৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে সরকার, হবে সর্বজনীন

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত