গনেশ দাস, বগুড়া

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গত এক বছরে বগুড়ায় একের পর এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও জেলা পুলিশের সদস্যরা কোথাও লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল বা রাবার বুলেট চালানোর মতো বলপ্রয়োগ করেনি। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ লাখ জনসংখ্যার এই জেলায় নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর পুলিশ শক্ত হাতে দমন না করে নরম অবস্থান নিয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১১ বার। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৪ জন পুলিশ সদস্য।
পুলিশের দাবি, এত বড় সংখ্যায় পুলিশ আহত হওয়ার নজির গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনেও দেখা যায়নি।
জেলা পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ এড়িয়ে যাচ্ছেন; যাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু পুলিশের এই ‘সংযম’কে দুর্বলতা ভেবে দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে। তাঁদের ভাষায়, অপরাধীরা শুধু নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে না, বরং সরাসরি পুলিশের ওপর হামলাও চালাচ্ছে। ফলে জেলার অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তবে বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে; যে কারণে এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়েও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এখন আর কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কেউ যেন মব সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় কাউকে না কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব। কিন্তু বাস্তবে এখনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পক্ষপাতের কারণে তাঁদের নির্দিষ্ট দলঘেঁষা কাজ করতে হচ্ছে, যা পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব ও মনোবল দুটিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
স্থানীয় সুশাসন পর্যবেক্ষক সংগঠন সুশাসনের জন্য প্রচার অভিযানের (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কে জি এম ফারুক বলেন, পুলিশের নৈতিক মনোবল ভেঙে গেছে। রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুর্বৃত্তদের পুলিশ ভয় পাচ্ছে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা হামলা চালাচ্ছে। অসৎ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্বৃত্তদের যোগসাজশ এখনো রয়েছে। ভুক্তভোগীদের পাশে পুলিশ সময়মতো দাঁড়ালে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক ভালো থাকবে। ফলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটবে না।
জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১১টি মামলা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪২ জন, পলাতক এজাহারভুক্ত আসামি ৩৯ জন। এই মামলাগুলোয় ৮১ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।
সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটে গত ২১ জুলাই শেরপুর থানার শেরুয়া বটতলা এলাকায়। সেদিন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এতে থানার চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে শুধু ওই নেতার ছেলে। শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তির ছেলে ছাড়া আর কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্থানীয় নাগরিক সমাজ বলছে, পুলিশের বলপ্রয়োগে অনীহা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এটি অপরাধীদের জন্য বার্তা হয়ে যাবে—‘পুলিশকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই’। আর সেটি হলে শুধু পুলিশই নয়, জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সায়েম বলেছেন, প্রচলিত আইনের প্রতি আস্থার অভাব, বিচার বিলম্বিত হওয়া, বিচার হবে না—এমন ধারণা পোষণ থেকে মানুষ আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে। এ ছাড়া নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রদর্শন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা থেকে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
আবু সায়েম আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার মতো অপরাধ কমাতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করা ছাড়াও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গত এক বছরে বগুড়ায় একের পর এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও জেলা পুলিশের সদস্যরা কোথাও লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল বা রাবার বুলেট চালানোর মতো বলপ্রয়োগ করেনি। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ লাখ জনসংখ্যার এই জেলায় নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর পুলিশ শক্ত হাতে দমন না করে নরম অবস্থান নিয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১১ বার। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৪ জন পুলিশ সদস্য।
পুলিশের দাবি, এত বড় সংখ্যায় পুলিশ আহত হওয়ার নজির গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনেও দেখা যায়নি।
জেলা পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ এড়িয়ে যাচ্ছেন; যাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু পুলিশের এই ‘সংযম’কে দুর্বলতা ভেবে দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে। তাঁদের ভাষায়, অপরাধীরা শুধু নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে না, বরং সরাসরি পুলিশের ওপর হামলাও চালাচ্ছে। ফলে জেলার অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
তবে বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ‘জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে; যে কারণে এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক।’ তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়েও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। এখন আর কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কেউ যেন মব সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় কাউকে না কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম, স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব। কিন্তু বাস্তবে এখনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পক্ষপাতের কারণে তাঁদের নির্দিষ্ট দলঘেঁষা কাজ করতে হচ্ছে, যা পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব ও মনোবল দুটিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
স্থানীয় সুশাসন পর্যবেক্ষক সংগঠন সুশাসনের জন্য প্রচার অভিযানের (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কে জি এম ফারুক বলেন, পুলিশের নৈতিক মনোবল ভেঙে গেছে। রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দুর্বৃত্তদের পুলিশ ভয় পাচ্ছে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা হামলা চালাচ্ছে। অসৎ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্বৃত্তদের যোগসাজশ এখনো রয়েছে। ভুক্তভোগীদের পাশে পুলিশ সময়মতো দাঁড়ালে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক ভালো থাকবে। ফলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটবে না।
জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১১টি মামলা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪২ জন, পলাতক এজাহারভুক্ত আসামি ৩৯ জন। এই মামলাগুলোয় ৮১ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।
সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটে গত ২১ জুলাই শেরপুর থানার শেরুয়া বটতলা এলাকায়। সেদিন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এতে থানার চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে শুধু ওই নেতার ছেলে। শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তির ছেলে ছাড়া আর কাউকে ধরা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্থানীয় নাগরিক সমাজ বলছে, পুলিশের বলপ্রয়োগে অনীহা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এটি অপরাধীদের জন্য বার্তা হয়ে যাবে—‘পুলিশকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই’। আর সেটি হলে শুধু পুলিশই নয়, জেলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবু সায়েম বলেছেন, প্রচলিত আইনের প্রতি আস্থার অভাব, বিচার বিলম্বিত হওয়া, বিচার হবে না—এমন ধারণা পোষণ থেকে মানুষ আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকে। এ ছাড়া নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রদর্শন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা থেকে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
আবু সায়েম আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার মতো অপরাধ কমাতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো অপরাধের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি করা ছাড়াও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

রাজধানীর ভাটারা থানার ভেতর থেকে চুরি হওয়া সেই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চোর চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা-পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের নাম ইব্রাহিম (২৮) ও রহমতুল্লাহ (২২)।
১ ঘণ্টা আগে
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর, আলীনগর ও ছিন্নমূল; এসব এলাকার হাজারো পাহাড় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সন্ত্রাসী আলী আক্কাস, কাজী মশিউর রহমান, ইয়াসিন মিয়া, গোলাম গফুর, রোকন উদ্দিন ওরফে রোকন মেম্বার, রিদোয়ান ও গাজী সাদেকের নাম ঘুরেফিরে আসে। চার দশক ধরে ওই সব এলাকার সরকারি পাহাড় কেটে আবাসন...
২ ঘণ্টা আগে
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
২ ঘণ্টা আগে
মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে পাচারের অপেক্ষায় জড়ো করে রাখা হয়েছে অন্তত ৭ হাজার বার্মিজ গরু। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে বাংলাদেশে অন্তত ৫০০ গরু ঢুকিয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ঘিরে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র। আর গত পাঁচ দিনে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি জব্দ করেছে বিজিবি সদস্যরা।
২ ঘণ্টা আগে