Ajker Patrika

গঠনতন্ত্রে দুবার থাকলেও রাকসুর ১০ মাসেও নেই কোনো অডিট কার্যক্রম

দীন ইসলাম, রাবি
গঠনতন্ত্রে দুবার থাকলেও রাকসুর ১০ মাসেও নেই কোনো অডিট কার্যক্রম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ (রাবি) দেশের চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই চার বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি ঘোষিত সেই অধ্যাদেশ অনুযায়ী নিজেদের মতো করে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ১৯৫৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন (রাসু) নামে প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। এরপর ১৯৫৭ সালে একই নামে আরও একটি নির্বাচন হয়। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নামে এখন পর্যন্ত ১৫ বার নির্বাচন হয়েছে।

সবশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর ১৭তম কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ছাত্র সংসদ গঠন করে।

তবে যেই অধ্যাদেশ অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সংসদ পরিচালিত হবে, নির্বাচন হওয়ার পর সেটিরই তোয়াক্কা করছেন না বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা।

অধ্যাদেশের ১২তম অধ্যায়ে রাকসু-সম্পর্কিত সব বিষয়ে বলা হয়েছে। একই অধ্যায়ের ১৫তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ছাত্র সংসদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে মেয়াদের এক বছরে দুবার রাকসুর যাবতীয় কার্যক্রম তদারকির জন্য রাকসুর সভাপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কর্তৃক মনোনীত দুজন শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে নিয়ে একটি অডিট বোর্ড গঠিত হবে। রাকসুর নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) অডিট বোর্ডের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তবে তিনি বোর্ডের সদস্য বলে বিবেচিত হবেন না।

এদিকে রাকসু নির্বাচনের ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও গঠনতন্ত্রের এই নিয়মের তোয়াক্কা করছেন না কেউ। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বে আসা প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আদৌ গঠনতন্ত্র জানেন কি না, এমন প্রশ্নও উঠছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, অডিট না হওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই।

তবে মেয়াদ শেষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী অডিট টিমের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে বছরে দুবার অডিট করার কথা থাকলেও বাস্তবতা হলো দীর্ঘদিন রাকসু বন্ধ ছিল। আমরা নতুন করে কার্যক্রম শুরু করার পর সবকিছু বুঝে উঠতে এবং বাজেট পেতেই প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে। ফলে, প্রথম ছয় মাসে রাকসুর কার্যক্রম সেভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী ছয় মাসে কার্যক্রমগুলো শুরু হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে অডিট করা সম্ভব হয়নি।’

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘অডিটের বিষয়ে বারবার ট্রেজারারকে বলা হয়েছে এবং তিনি বছর শেষে অডিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জেনেছি।’

জিএস আম্মার বলেন, ‘তবে আমাদের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব সমস্যাও ছিল। আমরা মূলত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি। এর আগে অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই সময়টায় সংসদ গঠন, ফান্ড উদ্ধার, প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় গুছিয়ে নিতে হয়েছে। ফলে, কার্যকরভাবে কাজ করার সময় আমরা প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে অনেক কম পেয়েছি। এ কারণে অডিটসহ কিছু কার্যক্রম সময়মতো করা সম্ভব হয়নি।’

এদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অডিট না হওয়ায় রাকসুর অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো।

গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মুখপাত্র ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, রাকসু সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে পারেননি। একই সঙ্গে বছরে দুবার অডিট করার নিয়মও বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে, আলোচিত ভাউচার অনিয়মের দায় রাকসুর এই দুই কর্তাব্যক্তির ওপরও বর্তায়।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, নিয়মিত অডিটের হিসাব প্রকাশ ও উপস্থাপন করা না হলে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এরই মধ্যে অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির অভিযোগও সামনে এসেছে। তাই রাকসুর অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান কোষাধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ বলেন, নিয়মিতভাবে ছয় মাস পরপর অডিট করা হলে বর্তমানে ভাউচার নিয়ে যে প্রশ্ন ও সংকট তৈরি হয়েছে, তা হয়তো এতটা বড় আকার ধারণ করত না। অডিট না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাকসুর আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত