Ajker Patrika

রাকসু ও শিবির নেতাদের ‘এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড’ বন্ধের দাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের

রাবি প্রতিনিধি 
রাকসু ও শিবির নেতাদের ‘এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড’ বন্ধের দাবি শিক্ষক নেটওয়ার্কের
শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতি। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ও শিবির নেতাদের বিরুদ্ধে ‘এখতিয়ারবহির্ভূত’ ও ‘অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। আজ বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

শিক্ষক নেটওয়ার্ক দাবি করেছে, গত ২৭ জুলাই রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও শিবিরের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন। পরে হামলার শিকার দুই শিক্ষার্থী—ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রক্টর দপ্তর থেকে শুরু করে রাকসু ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং আহত ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে পুনরায় মারধরের ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো ছাত্রসংগঠন বা ছাত্রনেতার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের ট্যাগিং করে ‘মব জাস্টিস’-এর শিকার বানানোর অভিযোগও করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তাঁর সহযোগীরা বিভিন্ন সময় এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। অতীতের কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, প্রশাসনিক দপ্তরে তালা দেওয়া, বিভিন্ন শিক্ষককে ভয়ভীতি প্রদর্শন, লাঠি নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, ব্যানার ছেঁড়া এবং বিভিন্ন আন্দোলনে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

সংগঠনটির ভাষ্য, অতীতে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, কোনো ছাত্রসংগঠন বা রাকসুর নয়। কিন্তু রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বারবার আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছেন।

শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, ২৭ জুলাইয়ের ঘটনাটি বলপ্রয়োগের নতুন নজির তৈরি করেছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। এ অবস্থায় আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি ও দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত