Ajker Patrika

ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ: বাঘায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি             
ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ: বাঘায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ
অভিযুক্ত শিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর বাঘায় এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ পদত্যাগ করেছেন। একই ঘটনায় অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা ও বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন না করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্তের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। আজ রোববার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত জুন মাসের শেষ দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ তাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং গায়ে হাত দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন।

খবর পেয়ে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষকের কক্ষে বসে অভিযোগ শুনতে চান। এ সময় দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। পদত্যাগপত্রে আব্দুস সামাদ লিখেছেন, ‘আমি আব্দুস সামাদ এই মর্মে অঙ্গীকার করতেছি যে, এই বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম। আমি সজ্ঞানে ও কারও প্ররোচনা ছাড়াই নিম্নে স্বাক্ষর করলাম।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম না। আজ রোববার স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। কোনো সহকর্মী এগিয়ে আসেননি। আমি চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’

পরে বিকেলে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ তাঁকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে আজকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে বিভিন্ন কথা শুনেছি। বিদ্যালয়ের স্বার্থে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে তদন্ত করা হবে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। সহকারী শিক্ষিকার বিষয়ে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।’

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়ে বিক্ষোভের ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পিছু নিলে প্রধান শিক্ষককে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে আনা হয়।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলেন, ‘অনৈতিক ব্যবহারের কারণে জোরালোভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত