আসাদ সরকার, নাট্যকার

চলতি পথে অনেক দিন কেউ নাম ধরে ডাকে না স্বপন বর্মনকে। সর্বশেষ কত দিন আগে কেউ স্বপন নামে ডেকেছে মনে করতে বললে একটু ভেবে হো হো করে হেসে ওঠেন। যে হাসির মানে হলো, তিনি মনে করতে পারছেন না। না পারারই কথা। প্রায় ৩০ বছর ধরে কখনো ‘সরকার’, কখনো ‘সওদাগর’ আবার কখনো ‘মাস্টার’ ডাক শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়েছেন। এসব ডাকের ভিড়ে কবে যে স্বপন নামটা হারিয়ে গেছে, বুঝতেই পারেননি।
নাম হারানো এ মানুষটি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সুলতানপুরের স্বপন বর্মন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকেও যিনি সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা লালন করে চলেছেন। কখনো আলকাপ গানের সরকার (মধ্যস্থতাকারী নানা চরিত্র), কখনো তিনি মনসার পালার সওদাগর, কখনো কীর্তন গানের মিউজিক মাস্টার, কখনো কবিগানের কবিয়াল আবার কখনো নাট্যদলের ভিলেন। না, আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে তিনি এ সবকিছুতে অংশগ্রহণ করেন, তা নয়। প্রতিটি ধারার জন্য নিজেই গঠন করেছেন দল। আলকাপ গানের জন্য গঠন করেছেন ‘মহামায়া আলকাপ দল’, মনসার পালার দল ‘দয়াল সরকারের মনসার পালা’, কীর্তন দল ‘বাল্যলীলা সম্প্রদায়’, নাট্যদলের নাম ‘সূরাঞ্জলি নাট্য সম্প্রদায়’ আর কবিগানের দল ‘মহামায়া কবিয়াল’। প্রতিটি দলের সাংগঠনিক দলপ্রধান এবং মঞ্চ পরিবেশনায় মূল ভূমিকায় থাকেন তিনি। সবচেয়ে অবাক কাণ্ড হলো, স্বপন বর্মনের পাঁচটি সংগঠনের সদস্যসংখ্যা মূলত ১৮ জন। এই ১৮ জনই পাঁচটি বিষয়ে সমানভাবে পারদর্শী। স্বপন বর্মনের নেতৃত্বে তাঁরা যখন যে রূপে দাঁড়িয়ে যান, সেটাকেই প্রকৃতরূপে পরিণত করেন তাঁরা।
স্বপন বর্মনের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, নেই কোনো প্রসিদ্ধ গুরু। রেবতি মোহন নামের একজন আলকাপশিল্পীর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন কিছুদিন। গুরু বলতে তিনিই।
এতগুলো দল গঠন করার কারণ হিসেবে স্বপন বর্মনের ব্যাখ্যাটা ঠিক এমন, ‘গ্রামের মানুষ যা চায়, তাই যেন আমার কাছে পায়, এইটাই মূল উদ্দেশ্য। গ্রামের মানুষ বড় দলের খোঁজ কই পাইবে আর খোঁজ পাইলেও ট্যাকা কই পাইবে?’
খুব সামান্য টাকায় স্বপনের দলগুলোকে বায়না করা যায় বলে পুরো জেলা থেকেই ডাক আসে তাদের। জেলার বাইরেও যান। টাকার পরিমাণ বাড়ে না। যে টাকা পান তা দিয়ে ১৮ জনের জীবন চলে না। টাকা জোটে না কিন্তু মানুষের যে ভালোবাসা জোটে, সেটা নিয়েই গর্ব স্বপনের। কর্মহীন ও অনাহারে বসে থেকেও তিনি গলা উঁচিয়ে বলেন, ‘ট্যাকাই কি সব? ভালোবাসা ছাড়া জীবনের কী মানে আছে?’
লোক সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমি নওগাঁর দেওয়া সম্মাননা স্মারকটা যখন বুকে জড়িয়ে ধরেন, তখন আমরা বুঝতে পারি সংস্কৃতির এই প্রান্তিক মানুষগুলোর চাওয়া কত অল্প!
একটা পরিবেশনা দেখতে চাইলে শুধু ১০ মিনিট সময় চাইলেন। এই সময়ের মধ্যেই স্বপনের ভাতিজা জয় কুমার একেবারে মেয়ে সেজে উঠলেন। তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা সাতজনকে নিয়েই শুরু করলেন আলকাপ পালা ‘মান ভঞ্জন’।
টাকা অর্থে অর্থ হয়তো নেই, কিন্তু স্বপন বর্মনের জীবনের অর্থ সেই অর্থের চেয়ে অনেক বেশি অর্থময়।

চলতি পথে অনেক দিন কেউ নাম ধরে ডাকে না স্বপন বর্মনকে। সর্বশেষ কত দিন আগে কেউ স্বপন নামে ডেকেছে মনে করতে বললে একটু ভেবে হো হো করে হেসে ওঠেন। যে হাসির মানে হলো, তিনি মনে করতে পারছেন না। না পারারই কথা। প্রায় ৩০ বছর ধরে কখনো ‘সরকার’, কখনো ‘সওদাগর’ আবার কখনো ‘মাস্টার’ ডাক শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়েছেন। এসব ডাকের ভিড়ে কবে যে স্বপন নামটা হারিয়ে গেছে, বুঝতেই পারেননি।
নাম হারানো এ মানুষটি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সুলতানপুরের স্বপন বর্মন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকেও যিনি সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা লালন করে চলেছেন। কখনো আলকাপ গানের সরকার (মধ্যস্থতাকারী নানা চরিত্র), কখনো তিনি মনসার পালার সওদাগর, কখনো কীর্তন গানের মিউজিক মাস্টার, কখনো কবিগানের কবিয়াল আবার কখনো নাট্যদলের ভিলেন। না, আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে তিনি এ সবকিছুতে অংশগ্রহণ করেন, তা নয়। প্রতিটি ধারার জন্য নিজেই গঠন করেছেন দল। আলকাপ গানের জন্য গঠন করেছেন ‘মহামায়া আলকাপ দল’, মনসার পালার দল ‘দয়াল সরকারের মনসার পালা’, কীর্তন দল ‘বাল্যলীলা সম্প্রদায়’, নাট্যদলের নাম ‘সূরাঞ্জলি নাট্য সম্প্রদায়’ আর কবিগানের দল ‘মহামায়া কবিয়াল’। প্রতিটি দলের সাংগঠনিক দলপ্রধান এবং মঞ্চ পরিবেশনায় মূল ভূমিকায় থাকেন তিনি। সবচেয়ে অবাক কাণ্ড হলো, স্বপন বর্মনের পাঁচটি সংগঠনের সদস্যসংখ্যা মূলত ১৮ জন। এই ১৮ জনই পাঁচটি বিষয়ে সমানভাবে পারদর্শী। স্বপন বর্মনের নেতৃত্বে তাঁরা যখন যে রূপে দাঁড়িয়ে যান, সেটাকেই প্রকৃতরূপে পরিণত করেন তাঁরা।
স্বপন বর্মনের নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, নেই কোনো প্রসিদ্ধ গুরু। রেবতি মোহন নামের একজন আলকাপশিল্পীর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন কিছুদিন। গুরু বলতে তিনিই।
এতগুলো দল গঠন করার কারণ হিসেবে স্বপন বর্মনের ব্যাখ্যাটা ঠিক এমন, ‘গ্রামের মানুষ যা চায়, তাই যেন আমার কাছে পায়, এইটাই মূল উদ্দেশ্য। গ্রামের মানুষ বড় দলের খোঁজ কই পাইবে আর খোঁজ পাইলেও ট্যাকা কই পাইবে?’
খুব সামান্য টাকায় স্বপনের দলগুলোকে বায়না করা যায় বলে পুরো জেলা থেকেই ডাক আসে তাদের। জেলার বাইরেও যান। টাকার পরিমাণ বাড়ে না। যে টাকা পান তা দিয়ে ১৮ জনের জীবন চলে না। টাকা জোটে না কিন্তু মানুষের যে ভালোবাসা জোটে, সেটা নিয়েই গর্ব স্বপনের। কর্মহীন ও অনাহারে বসে থেকেও তিনি গলা উঁচিয়ে বলেন, ‘ট্যাকাই কি সব? ভালোবাসা ছাড়া জীবনের কী মানে আছে?’
লোক সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমি নওগাঁর দেওয়া সম্মাননা স্মারকটা যখন বুকে জড়িয়ে ধরেন, তখন আমরা বুঝতে পারি সংস্কৃতির এই প্রান্তিক মানুষগুলোর চাওয়া কত অল্প!
একটা পরিবেশনা দেখতে চাইলে শুধু ১০ মিনিট সময় চাইলেন। এই সময়ের মধ্যেই স্বপনের ভাতিজা জয় কুমার একেবারে মেয়ে সেজে উঠলেন। তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা সাতজনকে নিয়েই শুরু করলেন আলকাপ পালা ‘মান ভঞ্জন’।
টাকা অর্থে অর্থ হয়তো নেই, কিন্তু স্বপন বর্মনের জীবনের অর্থ সেই অর্থের চেয়ে অনেক বেশি অর্থময়।

বিলম্বের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন রেলপথ প্রকল্প। ইতিমধ্যে চার দফা মেয়াদ বাড়ানো এই প্রকল্প শেষ করতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক যুগে প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
৪ ঘণ্টা আগে
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে জেলা কারাগারে রয়েছেন।
৫ ঘণ্টা আগে
যুগ যুগ ধরে সমুদ্রের পানি দিয়ে লবণ উৎপাদন করে আসছেন কৃষকেরা। তবে লবণ উৎপাদন কারখানার পরিত্যক্ত পানি দিয়ে আবার লবণ তৈরির সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কৃষকেরা।
৫ ঘণ্টা আগে
খুলনা জেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে বস্তা কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নতুন বস্তার সঙ্গে পুরোনো বস্তাও সরবরাহ ও ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুরোনো নিম্নমানের বস্তা ক্রয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে খাদ্যগুদামের অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তাদের দাবি...
৫ ঘণ্টা আগে