Ajker Patrika

কলাপাড়ায় ইউএনওর নাম করে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
কলাপাড়ায় ইউএনওর নাম করে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমের ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রাম-পুলিশ নিয়োগে ইউএনওকে ঘুষ দেওয়ার নাম করে প্রার্থীদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ধুলাসার ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে এই বিষয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিজ বাসভবনে খালি গায়ে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় বসে আছেন চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম। তাঁর হাতে কয়েক বান্ডিল টাকা দিচ্ছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। ইউএনওর টাকা দিতে হবে তাঁর ক্লার্ক আবুল বাশার অথবা পিয়ন মামুনের কাছে।

এদিকে ভিডিও ফুটেজটি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিমকে শোকজসহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ধূলাসার ইউনিয়নে চারজন গ্রাম-পুলিশ নিয়োগের বিপরীতে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৪-৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে সুনির্দিষ্টভাবে ৬নং ওয়ার্ডের প্রার্থী তামিমের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ১৬ জন গ্রাম-পুলিশের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ১৮ নভেম্বর ২০২৫ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ। এতে ১৬টি শূন্য পদের বিপরীতে ৮২ জন আবেদন করেন। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টায় মঙ্গলসুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই দিন বিকেল ৩টায় পরীক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ সময় নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি, সদস্য সচিবসহ অপর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান ইউএনও কাউছার হামিদ।

নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহব্বত খান দাবি করেন, পরীক্ষার দিন তিনি পটুয়াখালীতে মিটিংয়ে ছিলেন।

নিয়োগ বোর্ডের অপর সদস্য স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রাম-পুলিশ নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তাঁর দাবি স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযুক্ত ধূলাসার ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম বলেন, প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা তাদের ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি তাঁর। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের শোকজ নোটিশের জবাব নির্দেশিত সময়ের মধ্যেই তিনি দেবেন বলেও জানান।

ইউএনও কাউছার হামিদ বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ হয়েছে। ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। চেয়ারম্যানকে ইতিমধ্যে শোকজ করা হয়েছে এবং তিনি জবাব দিলে সেটি জেলা প্রশাসন বরাবর প্রেরণ করা হবে।

পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। ঘুষ লেনদেনে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁর জবাব উপজেলা থেকে জেলায় পাঠালে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপের খুদেবার্তায় বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সাথে কথা বলতে বলেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হঠাৎ বাড়তি রড-সিমেন্টের দাম

ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—নিশ্চিত করলেন দ. কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিছানো শুরু ইরানের, নজিরবিহীন পরিণতির হুমকি ট্রাম্পের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত