Ajker Patrika

পবিপ্রবি: ভিসির সঙ্গে বৈঠকের পর হামলা

  • ক্যাম্পাসে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে ৩০ মিনিট ধরে বৈঠক করেন চারজন।
  • হামলার প্রতিবাদ এবং উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে এখন চলছে শাটডাউন।
  • হামলার পর এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাননি উপাচার্য অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলাম।
মীর মহিবুল্লাহ, পটুয়াখালী
পবিপ্রবি: ভিসির সঙ্গে বৈঠকের পর হামলা
ফাইল ছবি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর হামলার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই হামলার আগের দিন হামলাকারী কয়েক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। যদিও হামলাকারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে এই হামলার প্রতিবাদ এবং উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে অচল হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বেশ কিছুদিন ধরে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলছিলেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় বহিরাগত ব্যক্তিদের একটি দল ক্যাম্পাসে ঢুকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ৩০ শিক্ষক ও কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এই হামলাকারীরা সবাই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং তাঁরা সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারী। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে দুমকী থানায় মামলা করা হয়েছে।

এই হামলা যাঁরা চালিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুমকী উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বশির উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রিপন শরীফ এবং কৃষক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওহাবও ছিলেন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন থেকে তাঁদের বহিষ্কারও করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, হামলার আগের দিন দুপুরে বশির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, রিপন শরীফ ও আব্দুল ওহাব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। এ সময় উপাচার্য তাঁর রুম থেকে বের হয়ে কনফারেন্স রুমে তাঁদের নিয়ে বসেন। সেখানে তাঁরা ৩০ মিনিট বৈঠক করেন।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, ‘হামলায় জড়িত বশির উদ্দিন সব সময় ভিসির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে থাকেন। এর আগেও ভিসিকে দেখে রাখার জন্য আমাকে কয়েকবার বলেছেন। হামলার আগের দিন দুপুর ১২টার দিকে বশির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, রিপন শরীফ ও আব্দুল ওহাব উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। বিষয়টি বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং এতে প্রমাণিত হয়, ভিসি পরিকল্পিতভাবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করিয়েছেন।’ তবে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী ছিল বা সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এই হামলার মামলার আসামি রিপন শরীফ বলেন, ‘আমি আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাইনি। সেখানকার সিসি ক্যামেরা দেখতে পারেন। তবে বশির ভাই গেলে যাইতে পারে, আমি যাইনি।’

এ নিয়ে কথা বলতে বশির উদ্দিনের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তবে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে কথা হয় হামলায় অংশ নেওয়া জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন আমি ভিসি স্যারের সঙ্গে আমার একটি বিষয়ে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। তখন স্যাররাও ছিল। আমি কথা বলে চলে আসছি। আমার সঙ্গে অন্য কেউ ছিল না।’ তাঁদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, ‘এমপি সাব দেশের বাইরে ছিলেন। আজকে হয়তো আসবেন। এরপর আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

এই হামলার ঘটনায় জড়িত আরেকজন আব্দুল ওহাব বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন আমি যাইনি। কথা হয়েছিল। ভিসি স্যার ফোন করেছিল।’ কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে বলেন, ‘বলেছে ওরা আমাকে গালাগাল করে, শহীদ, নান্টু ওরা ঝামেলা করে। এগুলো জানাইছে।’ আন্দোলনের কথা আগে জানতেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জানতাম আগেই। স্যারে ফোন করে বলেছে ওরা এবিল এবিল করতে চায়।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি সাড়া দেননি। এই হামলার পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও আসেননি বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্র।

এদিকে গতকাল রোববার টানা সপ্তম দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে অনির্দিষ্টকালের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বছরের পর বছর দলবদ্ধ ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল, বিচার না পেয়ে দুই বোনের আত্মহত্যা

ইরানের নতুন রণকৌশল: হরমুজের তলদেশ নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান

বিনা খরচে কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে আনছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস

জেরুজালেমের কাছে বিশাল বিস্ফোরণ, ইসরায়েল বলছে ‘পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা’

লাগবে না হরমুজ—পাইপলাইন ও রেলে আসবে উপসাগরীয় তেল!

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত