বোদা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

সরকারি ফি দিয়েও মিলছে না ভূমিসেবা। নামজারি, কাগজপত্র যাচাই ও শুনানির তারিখ নির্ধারণসহ বিভিন্ন কাজে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
তাঁদের ঘিরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগসংবলিত কয়েকটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেবার ধরন ও জমির পরিমাণভেদে ভূমি অফিসে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু, অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। আবু সোয়েব বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করেন সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। এ টাকা সরাসরি না নিয়ে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। আর নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
ভূমিসেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছে অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হয়। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ভোগান্তি। প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাধ্য হয়ে অনেকে অতিরিক্ত টাকা দেন বলেও অভিযোগ তাঁদের। তবে হয়রানির আশঙ্কায় ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ নাম প্রকাশ করতে চাননি।
অভিযোগের বিষয়ে সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেন, ‘আমি সপ্তাহে এক-দুই দিন বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে যাই। সহকারী কমিশনার (ভূমি) যেসব কাগজপত্র বাতিল করেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নিলে, সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।’
অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, তাই ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নেই।’
অন্যদিকে, ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুর বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









