বালাইনাশক প্রয়োগে ফসল নষ্টের অভিযোগ, ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক

ধারদেনা করে গড়ে তুলেছিলেন করলা ও লাউয়ের বাগান। ফলনও হয়েছিল ভালো। দুই দফা করলা বিক্রি করে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর কৃষক ইসলাম উদ্দিনের সংসারে। কিন্তু একটি বালাইনাশক প্রয়োগের পরই যেন সব ওলটপালট হয়ে গেছে। গাছের ডগা মরে যাচ্ছে, বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ছে ফল। প্রায় তিন বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন দিশেহারা এই কৃষক। তাঁর আশঙ্কা, ফসলের ক্ষতির সঙ্গে এবার ঋণের বোঝাও সামলাতে হবে তাঁকে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইসলাম উদ্দিন আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, উপজেলার ফকিরগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান থেকে পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘এম পেড’ নামের একটি জৈব বালাইনাশক কেনেন তিনি। এক হাজার মিলিলিটারের বোতলটির দাম পড়ে ১ হাজার ১০০ টাকা।
ইসলাম উদ্দিনের ভাষ্য, গত রোববার জমিতে নিয়ম অনুযায়ী বালাইনাশকটি স্প্রে করেন। পরদিন থেকেই গাছগুলো বিবর্ণ হতে শুরু করে। আজ বৃহস্পতিবার জমিতে গিয়ে দেখেন, প্রায় তিন বিঘা জমির করলার গাছ ঝলসে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে ফলন।
ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘এম পেড’ নামের বালাইনাশক দেওয়ার পরই আমার তিন বিঘা জমির করলার বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে আর ফলন হবে না, গাছ মরে গেছে। বাগান করতে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। ধারদেনা করে আবাদ করেছিলাম। এখন এই লোকসান সামলাব কীভাবে? যারা এমন বালাইনাশক বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ চাই।
কৃষকের অভিযোগ, বালাইনাশক কেনার আগে কোম্পানির প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ করতেন। কিন্তু পণ্যটি ব্যবহারের পর ফসল নষ্ট হয়ে গেলে ওই প্রতিনিধিকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে বিক্রেতাও ক্ষতির দায় নিতে চাইছেন না। ফলে কীভাবে লোকসান সামাল দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।
ইসলাম উদ্দিনের বাগানের ক্ষতি দেখে উদ্বিগ্ন স্থানীয় কৃষকেরাও। তাঁদের দাবি, এলাকায় তাঁর বাগানেই ফলন হয়েছিল সবচেয়ে ভালো। অথচ বালাইনাশক প্রয়োগের পর সেই বাগানই নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষক রুবেল আলী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের বাগানেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল। অথচ এই বালাইনাশক দেওয়ার পর পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে? সরকারকে এমন বালাইনাশকের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আব্দুল কুদ্দুস নামের আরেক কৃষক বলেন, বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা এলাকায় এসে কৃষকদের নানা কথা বুঝিয়ে তাঁদের পণ্য কিনতে উৎসাহিত করেন। কিন্তু এসব পণ্য ব্যবহারের পর কোনো কৃষকের ক্ষতি হলে অনেক সময় তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কীটনাশক বিক্রেতা আনিছুর রহমান লেবু। তিনি বলেন, এই বালাইনাশক আরও অনেক কৃষক নিয়েছেন। তাঁদের তো কোনো ক্ষতি হয়নি। নিশ্চয়ই তিনি ঠিকভাবে স্প্রে করতে পারেননি।
এ বিষয়ে পেট্রোকেম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিনিধির বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।









