Ajker Patrika

পাবিপ্রবি ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাবেক সেনাসদস্যকে পেটানোর অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ০৩
পাবিপ্রবি ছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাবেক সেনাসদস্যকে পেটানোর অভিযোগ
অভিযুক্ত সেলিম হোসেন ওরফে সেলিম দর্জি। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ইউসুফ আলী খান (৬০) নামে সাবেক এক সেনাসদস্যকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক দর্জির বিরুদ্ধে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের রাজাপুর ক্যালিকো কটন মিলের সামনে ডা. ইয়াজ উদ্দিন খাঁ সুপার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ইউসুফ আলী খান পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তিনি পাবনা থানায় সেলিম হোসেন ওরফে দর্জি সেলিমের (৫৫) বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর ক্যালিকো কটন মিলের সামনে ইউসুফ আলী খানের একটি মুদি দোকান রয়েছে। দোকানের পেছনের বসতবাড়িতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী ভাড়া থাকেন। তাঁর পাশের দোকানে দর্জির কাজ করেন সেলিম হোসেন।

দীর্ঘদিন ধরে সেলিম ওই ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব ও অশালীন কথা বলে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। এ কারণে কয়েকজন ছাত্রী মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। বিষয়টি জানার পর ইউসুফ আলী খান সেলিমকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আজ মঙ্গলবার বিকেলে ইউসুফ আলী খানের দোকানের সামনে এসে তাঁকে গালিগালাজ করেন দর্জি সেলিম। এর প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে ইউসুফের মাথায় আঘাত করেন সেলিম। এতে ইউসুফ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় ইউসুফের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সেলিম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সটকে পড়েন। পরে আহত ইউসুফকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।

উত্ত্যক্তের শিকার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দর্জি সেলিম আমাদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছেন। মেস থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার সময় তিনি আমাদের ডাক দিয়ে অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন এবং বিভিন্ন ধরনের অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। তাঁর এসব আচরণে আমরা আতঙ্ক ও অস্বস্তির মধ্যে চলাফেরা করি। এ কারণে আমাদের বেশ কয়েকজন বান্ধবী মেস ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেলিম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত