
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণ দেখিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নলচিরা-চেয়ারম্যানঘাট নৌরুটে ফেরি ‘মহানন্দা’ চলাচল বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সকালে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া থাকলেও একই সময়ে সিট্রাক, স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলার চলাচল করতে দেখা যায়। এতে ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ফেরির দায়িত্বে থাকা মাস্টার ও মেরিন কর্মকর্তা ফেরি ‘মহানন্দা’ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী যাত্রী, মালামাল ও যানবাহন ফেরিতে ওঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং টিকিট বিক্রি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম ফোনে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে যাত্রী ও যানবাহন ওঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ফেরিতে ওঠা যাত্রী এবং ঘাটে অপেক্ষমাণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।
আবদুল আহাদ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমরা জিম্মি ছিলাম, এখনো জিম্মি আছি। একটি সিন্ডিকেট সব সময় আমাদের জিম্মিদশার মধ্যে রাখতে চায়। একই নদীতে একই ঘাটে দুই ধরনের নিয়ম কেন হবে? দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যদি নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে একই সময়ে ছোট ছোট ট্রলার, স্পিডবোট ও সিট্রাক কীভাবে চলাচল করছে?’
মাইদুল নামে এক গাড়িচালক বলেন, ‘রাতে হাতিয়া যাওয়ার জন্য গ্যাস বোঝাই গাড়ি নিয়ে চেয়ারম্যানঘাটে অপেক্ষা করছিলাম। ফেরিতে ওঠার জন্য টিকিট কেটে গাড়ি নিয়ে পন্টুনে উঠেছি। পরে জানতে পারি ফেরি যাবে না। এদিকে পানি বেড়ে যাওয়ায় গাড়িটিও আর নামাতে পারিনি। এভাবে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলার কোনো মানে হয় না।’
ফেরির ইজারা প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম তুরাগ বলেন, ‘তিন নম্বর সতর্ক সংকেত থাকলেও নদীর অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। এ কারণে ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করছিল। ফেরির মাস্টার ও মেরিন অফিসারও নদীর পরিস্থিতি দেখে ফেরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমি আমার সব স্টাফকে ফোন করে ঘাটে এনেছি। ১৪৫টি যাত্রী টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু পরে একজন কর্মকর্তা ফোন করে ফেরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই নদীতে অন্যান্য নৌযান চলাচল করার পরও শুধু ফেরি বন্ধ রাখায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।’
কামরুল ইসলাম তুরাগ আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেরি চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই ঘাটে দুজন ম্যানেজার এবং একজন মেরিন অফিসার রয়েছেন। তারা সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। চট্টগ্রাম বসে বিআইডব্লিউটিএ নৌ সংরক্ষণ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম অন্যান্য নৌযান থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে শুধুমাত্র ফেরি বন্ধ করে রাখেন।’
এ বিষয়ে ফেরির দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার মো. ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আবহাওয়া ও নদীর পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ফেরি চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক মো. সেলিম বলেন, ‘ফেরি চলাচল বা বন্ধ রাখার দায়িত্ব আমার নয়। এটি বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দেখে থাকেন। তবে ঘাট থেকে যাত্রীরা আমাকে ফোন করে জানান, ফেরি বন্ধ রয়েছে অথচ অন্যান্য নৌযান চলাচল করছে। তখন আমি মেরিন অফিসারকে ফোন করে বলেছি, যদি ফেরি বন্ধ থাকে, তাহলে নিরাপত্তার স্বার্থে অন্যান্য নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখতে। কারও সঙ্গে আমার কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন হয়নি।’
স্থানীয় যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের দাবি, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতা থাকলে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তবে একই সময়ে সিট্রাক, স্পিডবোট ও অন্যান্য নৌযান চলাচল করলে শুধু ফেরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিভ্রান্তি কমবে।

প্রতিষ্ঠার সাত দশকেও পাবনা মানসিক হাসপাতালের বহির্বিভাগে নির্মাণ করা হয়নি বিশ্রামাগার। ফলে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাঁর স্বজনেরা। রোগী নিয়ে বহির্বিভাগের সামনে গাদাগাদি করে, কখনো খোলা মাঠে বা গাছতলায় বসে থাকতে হয় স্বজনদের।
৮ মিনিট আগে
পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান কক্সবাজার পৌরসভাকে সম্প্রসারণ করে রামু ও কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে বৃহত্তর নগর প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
১৬ মিনিট আগে
নাটোরের গুরুদাসপুরে খেলার মাঠ উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাট মাঠে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আনিছুর রহমান।
২৫ মিনিট আগে
জনবলসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, অপারেশন থিয়েটার না থাকাসহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে তাদের জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
২৯ মিনিট আগে