
নীলফামারীর সৈয়দপুরের একটি বিহারি (আটকে পড়া পাকিস্তানি) ক্যাম্প। সেখানে রেললাইন ঘেঁষা ছোট টিনের ঘরগুলোর কোনোটাতে তিনজন, কোনোটাতে ছোট-বড় শিশুদের নিয়ে ছয়জনের বসবাস। ঘরের ভেতর একটি ফ্যান, বাল্ব, আর মোবাইল চার্জ দেওয়ার লাইন। কারও কারও ঘরে রয়েছে এলইডি টিভি, ফ্রিজ। কিন্তু এই বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো মিটার নেই। আবার কোথাও ঝুলন্ত তারে ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিদ্যুৎ ব্যবহার। একটি সরকারি মিটার লাগানো থাকলেও সরাসরি লাইন থেকে সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন বেশির ভাগ পরিবার। এদের কেউই বিদ্যুৎ বিল দেয় না। এ অবস্থায় সৈয়দপুরের ২৪টি বিহারি ক্যাম্পে গত ১১ বছরে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি টাকারও বেশি।
একসময় এসব ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করত ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকত্ব স্বীকৃতির পর ধীরে ধীরে সেই ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় দিনে দিনে বাড়ছে বকেয়ার হার। আর বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা এই মোটা অঙ্কের বকেয়া বিল কে পরিশোধ করবে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।
২০০৮ সালের ১৮ মে হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, জন্ম ও বসবাসের ভিত্তিতে উর্দুভাষীরা বাংলাদেশের নাগরিক। এর পর থেকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এসব ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে অনাগ্রহী হয়ে ওঠে। ২০১৬ সালের কিছু আগে থেকে বিল পরিশোধ একেবারেই বন্ধ করে দেয় মন্ত্রণালয়টি।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো) পিএলসি সৈয়দপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্প রয়েছে ২৪টি। প্রতিটি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ মিটার রয়েছে। ওই ২৪টি মিটারে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ ব্যক্তিগত মিটার না থাকায় কেউই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন না বা করতে পারছেন না।
ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলছে সেখানকার বিদ্যুৎব্যবস্থা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ক্যাম্পের বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা মাসে কিছু টাকা দিই। কেউ ৩০ টাকাও দেয়, কেউ ১০০ টাকাও দেয়। কিন্তু সেটা বিদ্যুৎ অফিসে যায় কি না জানি না। নিজের নামে মিটার নেওয়ার সুযোগও পাই না।’
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এই টাকা তাঁরা মূলত ক্যাম্পের নেতাদের দেন। ফলে জরুরি লাইন মেরামত, নতুন সংযোগ ইত্যাদি সুবিধা পান। কিন্তু বৈধভাবে নতুন মিটার লাগানোর কোনো ব্যবস্থা ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ করতে নারাজ।
সৈয়দপুর ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল বলেন, ‘নাগরিকত্বের স্বীকৃতি মিললেও, অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমরা। আমরা সরকারের ফ্রি বিদ্যুৎ চাই না। আমরা বিদ্যুৎ বিল দিতে চাই। আমাদের ১১ দফা দাবি মেনে সম্মানজনক পুনর্বাসন করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে।’ তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দাতা সংস্থা সরকারকে সহায়তা দিত, সেই সহায়তা থেকে সরকার বিদ্যুৎ বিল দিত। এখন যেহেতু দাতা সংস্থা এই ইস্যুতে আর ত্রাণ দিচ্ছে না, তাই বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করছে না ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ না থাকলে বাচ্চারা পড়াশোনা করবে কীভাবে?
এ নিয়ে কথা হয় নেসকো পিএলসি, সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিমুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পে সরকারিভাবে একটি করে মিটার আছে। ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিল পরিশোধ করবে। যেহেতু ক্যাম্পের বাসিন্দারা এখন বাংলাদেশের নাগরিক, তাই তারা ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিলের দায়ভার আর নেবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জবাবের পর ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিটার স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু পৃথকভাবে বাসা ও দোকানে মিটার বসানোর উদ্যোগ নিলে সহযোগিতা মিলছে না। অনেক সময় স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত, মারমুখী হয়ে ওঠেন, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয়। এ কারণে সেখানে নিয়মিতভাবে মিটার স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’

বাবা বাঁধা বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে। চারপাশে মানুষের ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে বাবার কাছে ছুটে এল ছোট্ট মেয়েটি। সারা রাত না খেয়ে থাকা বাবার জন্য বাজারের দোকান থেকে কিনে আনল রুটি আর চা। এরপর নিজের হাতে বাবার মুখে তুলে দিল খাবার। বাবা-মেয়ের এই দৃশ্য ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়।
২ মিনিট আগে
বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে চার কেজি গাঁজাসহ মো. মানিক মিয়া (৩৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আজ শনিবার নগরীর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের চৌমাথা মাছবাজারের সামনের পাকা সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২৪ মিনিট আগে
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর মধ্যে শুধু রকেট মেইল মির্জাগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। তবে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মসংলগ্ন ১ নম্বর লাইনে না দাঁড়িয়ে ২ নম্বর লাইনে থামে। এতে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
২৬ মিনিট আগে
ঠাকুরগাঁও শহরে একটি ফার্মেসির তালা ভেঙে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ওষুধ ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে শহরের গোবিন্দনগর বিসিক মোড়ের ‘সৌহার্দ্য ফার্মেসি’তে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ শনিবার ফার্মেসির মালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।
২৯ মিনিট আগে