জুলাই আন্দোলন
সাবিত আল হাসান

জুলাই আন্দোলনে তখন উত্তাল পুরো দেশ। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই এক দিনেই নিহত হয় ১৪৮ জন। তাদের একজন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ১৬ বছরের কিশোর মোহাম্মদ আদিল। সেদিন জুমার আগে পুরো এলাকায় ছিল সুনসান নীরবতা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কোথায় কী হচ্ছে, তা জানার উপায় নেই। নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খেতে বসে। খাওয়ার শেষ দিকে হঠাৎ আদিলের চাচাতো ভাই দৌড়ে এসে বলে, ‘ভাইয়া, রাস্তায় পুলিশ গুলি করছে।’ এ কথা শুনেই আদিল ভাতের প্লেট ফেলে রাস্তায় ছুটে যায়। তারপর আর ঘরে ফেরা হয়নি তার। ভূঁইগড় এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সে।
ছেলের কথা বলতে গেলে এখনো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আদিলের বাবা আবুল কালাম। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, স্থানীয় এসবি গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ পুলিশকে কারখানায় আশ্রয় দিয়েছিল। সেখান থেকে গুলি চালিয়ে আদিলকে হত্যা করা হয়।
তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ছিল আদিল। গণিত অলিম্পিয়াডে একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছিল। স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার বা সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। ছোটবেলা থেকেই সাহসী ও চঞ্চল প্রকৃতির আদিল আন্দোলনে গেলেও ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা ছিল না মা-বাবার। ভেবেছেন, পুলিশ ধরার আগেই দৌড়ে নিরাপদে সরে যাবে। কিন্তু আদরের সন্তান আদিল দুনিয়া থেকেই চিরতরে হারিয়ে গেল। দেশমাতৃকার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করল।
আদিলের মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘কিছুই ভালো লাগে না। ছেলেকে আরও বেশি মনে পড়ছে। বুক ফেটে কাঁদতে পারলে হয়তো কষ্টটা একটু কমত।’
আয়েশা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘টানাটানির সংসারে তিন ছেলেকে সমানভাবে খাবার দিতে পারতাম না। খাবারে কমবেশি হলে ছোট ছেলেটা রাগ করত। আমি বলতাম, তোমার ভাইয়ারা উপার্জন করলে তুমিই তো খেতে পারবা। আজকে আমার ঘরে খাবারের অভাব নেই, কিন্তু ছেলেটারে খাওয়াইতে পারি না। আমার এখন একটাই চাওয়া, আমি যেন আমার ছেলে হত্যার বিচারটা পাই।’
আদিল ছিল পরিবারের ছোট ছেলে। তার বড় ভাই দুবাইপ্রবাসী, মেজ ভাই নার্সিংয়ে পড়ছেন। আদিলের মা এখনো ছেলের জন্য কাঁদেন। ছেলের রক্তভেজা লুঙ্গি বুকে জড়িয়ে, তার ব্যবহৃত জামাকাপড়, বই-খাতায় ছেলের স্পর্শ খোঁজেন।
আদিলের ভাই বায়েজিদ আহমেদ বলেন, ১৯ জুলাই সবাই রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছিল। এসবি গার্মেন্টসের তৃতীয় তলা থেকে গুলি চালানো হয়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আদিল।
এ ঘটনায় করা মামলার মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আদিলের পরিবারের চাওয়া, এই হত্যার বিচার যেন তারা দেখে যেতে পারে। একই সঙ্গে আদিলের কবরটি যেন স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
আরও খবর পড়ুন:

জুলাই আন্দোলনে তখন উত্তাল পুরো দেশ। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই এক দিনেই নিহত হয় ১৪৮ জন। তাদের একজন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ১৬ বছরের কিশোর মোহাম্মদ আদিল। সেদিন জুমার আগে পুরো এলাকায় ছিল সুনসান নীরবতা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কোথায় কী হচ্ছে, তা জানার উপায় নেই। নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে খেতে বসে। খাওয়ার শেষ দিকে হঠাৎ আদিলের চাচাতো ভাই দৌড়ে এসে বলে, ‘ভাইয়া, রাস্তায় পুলিশ গুলি করছে।’ এ কথা শুনেই আদিল ভাতের প্লেট ফেলে রাস্তায় ছুটে যায়। তারপর আর ঘরে ফেরা হয়নি তার। ভূঁইগড় এলাকায় আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সে।
ছেলের কথা বলতে গেলে এখনো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আদিলের বাবা আবুল কালাম। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, স্থানীয় এসবি গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ পুলিশকে কারখানায় আশ্রয় দিয়েছিল। সেখান থেকে গুলি চালিয়ে আদিলকে হত্যা করা হয়।
তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ছিল আদিল। গণিত অলিম্পিয়াডে একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছিল। স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার বা সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। ছোটবেলা থেকেই সাহসী ও চঞ্চল প্রকৃতির আদিল আন্দোলনে গেলেও ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা ছিল না মা-বাবার। ভেবেছেন, পুলিশ ধরার আগেই দৌড়ে নিরাপদে সরে যাবে। কিন্তু আদরের সন্তান আদিল দুনিয়া থেকেই চিরতরে হারিয়ে গেল। দেশমাতৃকার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করল।
আদিলের মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘কিছুই ভালো লাগে না। ছেলেকে আরও বেশি মনে পড়ছে। বুক ফেটে কাঁদতে পারলে হয়তো কষ্টটা একটু কমত।’
আয়েশা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, ‘টানাটানির সংসারে তিন ছেলেকে সমানভাবে খাবার দিতে পারতাম না। খাবারে কমবেশি হলে ছোট ছেলেটা রাগ করত। আমি বলতাম, তোমার ভাইয়ারা উপার্জন করলে তুমিই তো খেতে পারবা। আজকে আমার ঘরে খাবারের অভাব নেই, কিন্তু ছেলেটারে খাওয়াইতে পারি না। আমার এখন একটাই চাওয়া, আমি যেন আমার ছেলে হত্যার বিচারটা পাই।’
আদিল ছিল পরিবারের ছোট ছেলে। তার বড় ভাই দুবাইপ্রবাসী, মেজ ভাই নার্সিংয়ে পড়ছেন। আদিলের মা এখনো ছেলের জন্য কাঁদেন। ছেলের রক্তভেজা লুঙ্গি বুকে জড়িয়ে, তার ব্যবহৃত জামাকাপড়, বই-খাতায় ছেলের স্পর্শ খোঁজেন।
আদিলের ভাই বায়েজিদ আহমেদ বলেন, ১৯ জুলাই সবাই রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছিল। এসবি গার্মেন্টসের তৃতীয় তলা থেকে গুলি চালানো হয়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় আদিল।
এ ঘটনায় করা মামলার মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আদিলের পরিবারের চাওয়া, এই হত্যার বিচার যেন তারা দেখে যেতে পারে। একই সঙ্গে আদিলের কবরটি যেন স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
আরও খবর পড়ুন:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস ফলের দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পান দোকানি। তবে বাসের ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেছে ওই ফলের দোকানটি। বাসের ধাক্কায় একটি অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বরুমচড়া রাস্তার মাথা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
বিতণ্ডার কিছুক্ষণ পর ফাহিমা গোসলের জন্য ঘরে প্রবেশ করলে সাইদ সিয়াম তাঁর চার-পাঁচজন সহযোগীকে নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ফাহিমার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ফাহিমার চিৎকারে তাঁর চাচা আবু তাহের, চাচাতো ভাই ইকবাল হোসেন এবং বোনের জামাই শাহজালাল এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদেরও কুপিয়ে জখম করেন।
১ ঘণ্টা আগে
‘অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে এই বিষয়টিও রয়েছে। কিছুদিন আগে ভিকটিম একটা মানববন্ধন করেছিলেন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। সেখানে মারামারি হয়েছিল। সে ঘটনায় মামলা হয়েছে। তা ছাড়া তিনি উদীয়মান জনপ্রিয় নেতা। এই বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’
১ ঘণ্টা আগে
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ করে হামলা, ভাঙচুর ও কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে