শরিফুল ইসলাম তনয়, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

পকেটে টাকা নেই, এদিকে পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই, হোটেলটির মালিককে বলে টাকা ছাড়াই খেয়ে নেওয়া যায়। তিনি উপস্থিত না থাকলে যেকোনো কর্মচারীকে বললেও খাবার পরিবেশন করবেন। বাজারে সবকিছুর দাম যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখন এক ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে অবস্থিত চিটাগাং হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মো. খোরশেদ আলম। তাঁর এমন উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।
প্রতিদিনই দরিদ্র, অসহায়, ক্ষুধার্ত মানুষেরা হোটেলটিতে এসে টাকা নেই জানালেই বিনা পয়সায় খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া প্রতি রোববার ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই হোটেলমালিক অর্ধশত দরিদ্র, অসহায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে খাবার খাওয়ান অতিথির মতো। নানান জায়গা থেকে এই হোটেলে এসে বসে পড়েন ছিন্নমূল মানুষ। ভালো খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তাঁরা। দোয়া করেন দু’হাত তুলে হোটেলের মালিক, কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জন্য।
খাবারের তালিকায় একেক দিন একেক ধরনের আইটেম থাকে। যেমন সাদা ভাত, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ছোট-বড় মাছ, সবজি, ডাল, পরোটা, ডিম ভাজি। ব্যবসার পাশাপাশি অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে নিজের শান্তি খুঁজে পান বলে জানান খোরশেদ আলম। তিন মাস বেশি সময় এই মানবিক কাজটি করছেন খোরশেদ আলম।
খাবার খেতে আসা ষাটোর্ধ্ব নুরজাহান বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার বাসা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নে। আমি কয়েক মাস ধইরা এই হোটেলে আহি। আমি একটা অ্যাকসিডেন্টের মানু (মানুষ)। আমার স্বামী স্ট্রোক কইরা ঘরে পঙ্গু। আমার এখন চলার পথ নাই। দুইটা মাইয়া আছে। বিয়া দিয়া দিছি। পরের পোলার ঘরে গেছে, এখন আর দেখে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়ডা খাওয়োনের লেইগা এনে আইছি। হেরা অনেক ভালো খাওয়ায়। আর কোনো হোটেলে এমন খাওয়ায় না। আমি দোয়া করি আল্লাহ যেনো হেগো মনের আশা পূরণ করে। আরও যেনো বেশি মাইনসের খাওয়াইতে পারে, দিতে পারে।’
খাবার খেতে আসা নূর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাবা আমি ভিক্ষা কইরা খাই। বয়স হওয়াতে এই শীতে বেশিক্ষণ বাইরে থাকতারি না। তাই টাহাও বেশি পাই না। কিন্তু আমার খিদা লাগলে আমি এনে আহি হেরা আমারে খাওয়ায়। হেগো খাওয়োন ভালোই লাগে। এমনে সকালে আইলে পরোটা ভাজি দেয়। আর দুপুরে একেক দিন একেকটা দেয়। এই খাওয়োন পাইয়া আমার অনেক উপকার হইতাছে।’
তিন সন্তানের জননী বানু। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি রাস্তায় রাস্তায় সাহায্য উঠান। বানু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার দুইটা ঝি (মেয়ে) ও একটা ছুডু পোলা আছে। একটা ঝিরে বিয়া দিছি এখন জামাইর লগে থাকে। আরেকটা ঝি মাইনসের বাড়িতে কাম করে। আর পোলাডায় মাদ্রাসায় পড়ে। এনে আমি সব সময় খাই। এনে আইলে কখনো খাওয়োন ছাড়া যাই না। একটা রুডি হইলেও হেরা দেয়। আইজ্জা মাংস রুডি ডাইল লেবু শসা আবার কাঁচামরিচও দিছে খাইতে। পেটটা মনডা ভইরা খাইছি। আমি দোয়া করি আল্লাহ যেনো হেতাগো আরও বেশিত্তুন বেশি দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘এটি একটি মানবিক দৃষ্টান্তমূলক কাজ। ভিক্ষুক-পথচারীসহ ক্ষুধার্তরা বিনা পয়সায় খাবার পাচ্ছেন। তিনি এই কাজটি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। এর জন্য আমরা এলাকাবাসী হিসেবে তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করি। তবে তার পাশাপাশি এখানকার বাকি হোটেলের মালিক ও এলাকার বিত্তবান মানুষেরা যেন এমন কাজে এগিয়ে আসেন। তাহলে আমাদের সমাজটা সুন্দর হবে।’
চিটাগাং হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মচারী মামুন বলেন, ‘এই হোটেলে আমি অনেক দিন ধরে কাজ করি। মানুষকে খাবার পরিবেশন করি। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষগুলোকে আমি খাওয়াই। আমার এই কাজটি করতে খুব ভালো লাগে। আমাদের মালিক এই অসহায় লোকদের খাওয়ান, তাতেও আমাদের কোনো বেতন আটকায় না। তিনি প্রতিদিনের হাজিরা প্রতিদিন আমাদের দিয়ে দেন।’
চিটাগাং হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকার মো. খোরশেদ আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি চাই আশপাশে যাঁরা আছে তাঁরাও যেন আমার মতো এমন উদ্যোগ নেয়। যাতে করে যারা খেতে পারে না তারা যেন এক বেলা পেট ভরে খেতে পারে। এদের খাবার দিতে আমার কোনো লোকসান হচ্ছে না। আল্লাহর ইচ্ছা তিনি আমার মাধ্যমে এই রিজিক রাখছে অসহায় মানুষের জন্য। এ ছাড়া কেউ আমার কাছে এসে গোপনে যদি বলে টাকা নেই তাহলে আমি তাকে খাওয়ায় দিই। আমি আমার কোনো কর্মচারীকেও বুঝতে দিই না।’
তিনি বলেন, ‘এখানে আমার ১৮ জন কর্মচারী আছেন। গত ৩-৪ মাস ধরে আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। এতে করে আমার কোনো স্টাফের বেতন দিতে অসুবিধা হয় না। আমি কারও বেতন কখনো বাকি রাখি না।’

পকেটে টাকা নেই, এদিকে পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই, হোটেলটির মালিককে বলে টাকা ছাড়াই খেয়ে নেওয়া যায়। তিনি উপস্থিত না থাকলে যেকোনো কর্মচারীকে বললেও খাবার পরিবেশন করবেন। বাজারে সবকিছুর দাম যখন আকাশচুম্বী, ঠিক তখন এক ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে অবস্থিত চিটাগাং হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মো. খোরশেদ আলম। তাঁর এমন উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয়দের।
প্রতিদিনই দরিদ্র, অসহায়, ক্ষুধার্ত মানুষেরা হোটেলটিতে এসে টাকা নেই জানালেই বিনা পয়সায় খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া প্রতি রোববার ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওই হোটেলমালিক অর্ধশত দরিদ্র, অসহায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষকে খাবার খাওয়ান অতিথির মতো। নানান জায়গা থেকে এই হোটেলে এসে বসে পড়েন ছিন্নমূল মানুষ। ভালো খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন তাঁরা। দোয়া করেন দু’হাত তুলে হোটেলের মালিক, কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের জন্য।
খাবারের তালিকায় একেক দিন একেক ধরনের আইটেম থাকে। যেমন সাদা ভাত, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, ছোট-বড় মাছ, সবজি, ডাল, পরোটা, ডিম ভাজি। ব্যবসার পাশাপাশি অনাহারী মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়ে নিজের শান্তি খুঁজে পান বলে জানান খোরশেদ আলম। তিন মাস বেশি সময় এই মানবিক কাজটি করছেন খোরশেদ আলম।
খাবার খেতে আসা ষাটোর্ধ্ব নুরজাহান বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার বাসা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নে। আমি কয়েক মাস ধইরা এই হোটেলে আহি। আমি একটা অ্যাকসিডেন্টের মানু (মানুষ)। আমার স্বামী স্ট্রোক কইরা ঘরে পঙ্গু। আমার এখন চলার পথ নাই। দুইটা মাইয়া আছে। বিয়া দিয়া দিছি। পরের পোলার ঘরে গেছে, এখন আর দেখে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়ডা খাওয়োনের লেইগা এনে আইছি। হেরা অনেক ভালো খাওয়ায়। আর কোনো হোটেলে এমন খাওয়ায় না। আমি দোয়া করি আল্লাহ যেনো হেগো মনের আশা পূরণ করে। আরও যেনো বেশি মাইনসের খাওয়াইতে পারে, দিতে পারে।’
খাবার খেতে আসা নূর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাবা আমি ভিক্ষা কইরা খাই। বয়স হওয়াতে এই শীতে বেশিক্ষণ বাইরে থাকতারি না। তাই টাহাও বেশি পাই না। কিন্তু আমার খিদা লাগলে আমি এনে আহি হেরা আমারে খাওয়ায়। হেগো খাওয়োন ভালোই লাগে। এমনে সকালে আইলে পরোটা ভাজি দেয়। আর দুপুরে একেক দিন একেকটা দেয়। এই খাওয়োন পাইয়া আমার অনেক উপকার হইতাছে।’
তিন সন্তানের জননী বানু। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি রাস্তায় রাস্তায় সাহায্য উঠান। বানু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার দুইটা ঝি (মেয়ে) ও একটা ছুডু পোলা আছে। একটা ঝিরে বিয়া দিছি এখন জামাইর লগে থাকে। আরেকটা ঝি মাইনসের বাড়িতে কাম করে। আর পোলাডায় মাদ্রাসায় পড়ে। এনে আমি সব সময় খাই। এনে আইলে কখনো খাওয়োন ছাড়া যাই না। একটা রুডি হইলেও হেরা দেয়। আইজ্জা মাংস রুডি ডাইল লেবু শসা আবার কাঁচামরিচও দিছে খাইতে। পেটটা মনডা ভইরা খাইছি। আমি দোয়া করি আল্লাহ যেনো হেতাগো আরও বেশিত্তুন বেশি দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘এটি একটি মানবিক দৃষ্টান্তমূলক কাজ। ভিক্ষুক-পথচারীসহ ক্ষুধার্তরা বিনা পয়সায় খাবার পাচ্ছেন। তিনি এই কাজটি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। এর জন্য আমরা এলাকাবাসী হিসেবে তাঁকে নিয়ে গর্ববোধ করি। তবে তার পাশাপাশি এখানকার বাকি হোটেলের মালিক ও এলাকার বিত্তবান মানুষেরা যেন এমন কাজে এগিয়ে আসেন। তাহলে আমাদের সমাজটা সুন্দর হবে।’
চিটাগাং হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মচারী মামুন বলেন, ‘এই হোটেলে আমি অনেক দিন ধরে কাজ করি। মানুষকে খাবার পরিবেশন করি। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষগুলোকে আমি খাওয়াই। আমার এই কাজটি করতে খুব ভালো লাগে। আমাদের মালিক এই অসহায় লোকদের খাওয়ান, তাতেও আমাদের কোনো বেতন আটকায় না। তিনি প্রতিদিনের হাজিরা প্রতিদিন আমাদের দিয়ে দেন।’
চিটাগাং হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকার মো. খোরশেদ আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি চাই আশপাশে যাঁরা আছে তাঁরাও যেন আমার মতো এমন উদ্যোগ নেয়। যাতে করে যারা খেতে পারে না তারা যেন এক বেলা পেট ভরে খেতে পারে। এদের খাবার দিতে আমার কোনো লোকসান হচ্ছে না। আল্লাহর ইচ্ছা তিনি আমার মাধ্যমে এই রিজিক রাখছে অসহায় মানুষের জন্য। এ ছাড়া কেউ আমার কাছে এসে গোপনে যদি বলে টাকা নেই তাহলে আমি তাকে খাওয়ায় দিই। আমি আমার কোনো কর্মচারীকেও বুঝতে দিই না।’
তিনি বলেন, ‘এখানে আমার ১৮ জন কর্মচারী আছেন। গত ৩-৪ মাস ধরে আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। এতে করে আমার কোনো স্টাফের বেতন দিতে অসুবিধা হয় না। আমি কারও বেতন কখনো বাকি রাখি না।’

যশোরে গত এক বছরে খুন হয়েছেন অন্তত ৬২ জন। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বিদেশি পিস্তল। সীমান্ত দিয়ে যে হারে অস্ত্র ঢুকছে, সেই তুলনায় উদ্ধার তৎপরতা কম। এমন বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
রবিশস্য ও বোরো মৌসুম চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান জেলা নীলফামারীতে মাঠজুড়ে কৃষকের ব্যস্ততা। আলু, গম, ভুট্টা, শাকসবজি ও বোরো ক্ষেতে সেচ ও পরিচর্যায় সময় কাটছে কৃষকদের। তবে এই ব্যস্ততার আড়ালে চলছে আরেক লড়াই—সার সংগ্রহের। আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক।
৪ ঘণ্টা আগে
বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রুপাতলীতে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী লালার দীঘি দখলবাজির কারণে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। দীঘিটির দক্ষিণ পাড়ের ৫০ শতাংশ জায়গা পাইপের মাধ্যমে ভরাট করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরিশাল নগরের রুপাতলী হাউজিং স্টেট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য দীঘির বিশাল অংশ নিয়ে তারা পাইলিংও দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ ব্যবস্থায় ওই দুই পদের প্রার্থীদের লিখিত বা বাছাই এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
৫ ঘণ্টা আগে