Ajker Patrika

মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬.৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাঁপছে নওগাঁ

প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ)
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ১৯
ঘন কুয়াশা আর তীব্র ঠান্ডার কারণে রাস্তাঘাট সুনসান হয়ে পড়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঘন কুয়াশা আর তীব্র ঠান্ডার কারণে রাস্তাঘাট সুনসান হয়ে পড়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁয় আজ বুধবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র শীতে নওগাঁর জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তীব্র ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যান ও রিকশাচালক, পথশিশু ও ছিন্নমূল মানুষ।

ভোর হতেই ঘন কুয়াশায় আড়াল হয়ে যাচ্ছে চারপাশ, দেখা মিলছে না সূর্যের। কনকনে ঠান্ডা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে শহর, গ্রামসহ পুরো জেলা। বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকাল ৯টায় বদলগাছীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন। আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের কারণে আগামী কয়েক দিন শীত আরও বাড়তে পারে।

নওগাঁ যেন শীতের চাদরে ঢাকা এক নিস্তব্ধ জনপদ হয়ে গেছে। তীব্র ঠান্ডায় লোকজন ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বের হচ্ছে না। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকেই সড়ক-মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দূরপাল্লার যানবাহন চলছে ধীরগতিতে, বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। শীতের তীব্রতায় খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বদলগাছী সদর এলাকার কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, ‘এ বছরের মতো এত শীত আমি কোনো বছর দেখিনি। বোরো আবাদের বীজতলা আর আলুর গাছ ঘন কুয়াশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খুব চিন্তায় আছি, কবে যে আবহাওয়া ভালো হবে।’

ভ্যানচালক আব্দুল তালেব বলেন, ‘শীতে হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। সকালে কোনো যাত্রীর দেখা নেই। পেটের দায়ে ভোরেই ভ্যান নিয়ে চার মাথা মোড়ে এসেছি, কিন্তু এখনো যাত্রী পাইনি। ঠান্ডার জন্য মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।’

শহর থেকে গ্রাম সবখানে শীতের একচেটিয়া দাপট। সকালে মাঠে যেতে পারছেন না কৃষকেরা, কাজে বের হতে দেরি করছেন শ্রমজীবীরা। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। শীত নিবারণের জন্য অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে কিংবা পুরোনো কম্বল গায়ে জড়িয়ে রাত পার করছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই শীত যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত