Ajker Patrika

বদলগাছীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, ৫০ মিটার অংশ বাদ

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি 
বদলগাছীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, ৫০ মিটার অংশ বাদ
বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের উজালপুর গ্রামে নির্মাণকাজে ৫০ মিটার বাদ পড়া সড়ক। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁর বদলগাছীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি পাকা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় পুরো সড়ক অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তবে শেষ প্রান্তের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে সরকারি নথিতে প্রকৃত গ্রামের নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘২০২৬ সালে মিঠাপুর পুরাতন হাটখোলা থেকে উজালপুর গ্রাম ইউনিব্লক সড়ক পর্যন্ত ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও প্রায় ৩ মিটার প্রস্থের একটি পাকা সড়ক নির্মাণের প্রকল্প গেজেটভুক্ত হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৫৮ টাকা।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নকশায় পুরো ৫৫০ মিটার সড়ক থাকলেও কাজ শুরুর পর দেখা যায় শেষের প্রায় ৫০ মিটার অংশ কাঁচা রেখেই নির্মাণকাজ শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে ওই অংশে বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প-সংক্রান্ত সরকারি নথিতে সড়কের শেষ প্রান্ত ‘জগপাড়া’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই এলাকায় জগপাড়া নামে কোনো গ্রাম বা পাড়া নেই। প্রকৃত নাম ‘উজালপুর’। এ ধরনের নাম পরিবর্তন ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও তাঁদের আশঙ্কা।

গ্রামের বাসিন্দা প্রণব মণ্ডল বলেন, মাত্র ৫০-৬০ মিটার রাস্তা বাদ দেওয়ায় পুরো সড়কের সুবিধাই অনেকটা নষ্ট হয়ে যাবে। বৃষ্টি হলে কাঁচা অংশে কাদা জমবে, তখন মানুষের চলাচল ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হবে।  বাদ দেওয়া অংশটি ভবিষ্যতে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে আবারও সরকারি অর্থ বরাদ্দ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।

কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর মেসার্স সবুজ সাথী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান মারুফ বলেন, ‘এস্টিমেটে ৫৫০ মিটার রাস্তার কথা আছে। তবে একটি ছোট অংশ বাদ রয়েছে। বিষয়টি টেন্ডারেও ছিল না। কেন বাদ গেছে, তা আমি জানি না। আবার একজন ব্যক্তি তাঁর জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ করায় কাজেও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বদলগাছী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহারিয়ার বলেন, ‘ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে অন্য কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে বাদ পড়া অংশের কাজ করা যেতে পারে। তবে শুরুতেই কেন ওই অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’  গ্রামের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, নথিপত্র দেখে বিষয়টি বলতে হবে।

নওগাঁ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মুনসুর আলী বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত