Ajker Patrika

হালুয়াঘাটে ছয় গ্রামে ফসলের খেত প্লাবিত, ঘরে ঢুকে পড়েছে পানি

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
হালুয়াঘাটে ছয় গ্রামে ফসলের খেত প্লাবিত, ঘরে ঢুকে পড়েছে পানি
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্লাবিত এলাকা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের অন্তত ছয়টি গ্রামের ফসলের খেত প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরেও ঢুকে পড়েছে পানি। জানা গেছে, উপজেলার বোরারঘাট নদীর বাঁধে সৃষ্ট ২০০-৩০০ মিটার ভাঙনের অংশ দিয়ে গত শুক্রবার রাতে গ্রামগুলোতে পানি ঢোকে। এতে বোরো ধান, ভুট্টা ও বাদামের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরারঘাট নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে ও মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় নদীর ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে আশপাশের বোয়ালমারা, মহাজনিকান্দা, পাগলাবাজার, পূর্ব কালিনিকান্দা ও আনচেংগ্রী গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ওই সব এলাকায় আবাদ করা বোরো ধান পানির নিচে রয়েছে। এসব গ্রামের নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষজন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

আনচেংগ্রী গ্রামের কৃষক আ. মজিদ বলেন, ‘সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের গ্রাম। কয়েক দিনের মধ্যে বোরো ধানের ছড়া বের হতে শুরু করত। ঢলে ধান পানির নিচে রয়েছে। এতে দুশ্চিন্তা কাটছে না। পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে।’

বোয়ালমারা এলাকার মোকলেছুর রহমান বলেন, মধ্য বোয়ালমারা এলাকায় নদীর বাঁধ কয়েক বছর আগে ভেঙে যায়; কিন্তু মেরামত না করায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খুব দ্রুত পানি উঠে যায়। এই বাঁধ দ্রুত মেরামত করার দাবি জানান তিনি।

বোয়ালমারা এলাকার সুশান্ত সাংমা বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্যি, কয়েক দশক ধরে দেখছি, গারো-অধ্যুষিত জনগোষ্ঠী হওয়ায় এ এলাকার কোনো রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, বেড়িবাঁধের উন্নয়নমূলক কোনো কাজ কেউ করেননি। অযত্ন-অবহেলায় হাজার হাজার একর ফসলি জমির বোরো ধান, বাদাম, ভুট্টা, রবিশস্য কৃষকের উৎপাদিত সব ফসল প্রতিবছর বিলীন হয়ে যায়।’

জুয়েল রানা বলেন, ‘বোরাঘাট নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যায় প্রায় ২ বছর আগে, ফলে নদীতে পাহাড়ি ঢলের কারণে মসজিদ, কবরস্থান, রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, যোগাযোগব্যবস্থা এখন অচল। জানি না আর কত দিন এ দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে বোয়ালমারাবাসীকে।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত বলেন, ওই এলাকা তুলানামূলক নিচু হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়। তিনি বলেন, নদীর ভেঙে যাওয়া অন্তত ২০০-৩০০ মিটার একটি স্থায়ী বাঁধের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ব্যাংক এশিয়ার কাছে ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি কার্যক্রম বিক্রি করছে পাকিস্তানি ব্যাংক আলফালাহ

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পাঁচজনই পোশাকশ্রমিক, বাড়ি গাইবান্ধা

যুক্তরাজ্যের একটি বন্য প্রাণী পার্কে পুরো নেকড়ে দলকে হত্যা

দেশের সব পেট্রলপাম্পে নিয়োগ হবে ট্যাগ অফিসার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত